default-image

অধ্যায় ১

মানুষ— মালপত্র— যন্ত্রপাতি

পদ্ধতি— ‘ক’— অর্থ

ক. পেশা কাকে বলে?

খ. ‘ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন’—এ কথাটির ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত স্থানে কী নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘উদ্দীপকের উপকরণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব’—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. বিশেষায়িত জ্ঞান ও ডিগ্রি-সংবলিত ব্যক্তিরা, যাঁরা রাষ্ট্রস্বীকৃত নিজস্ব সমিতির সদস্য হয়ে নির্দিষ্ট আচরণবিধি ও নিয়ম-নীতির আওতায় কোনো কাজ বা বৃত্তিতে লিপ্ত থাকেন, তাঁদের ওই কাজকে পেশা বলে।

খ. ‘ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে সব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের প্রয়োগযোগ্যতাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ব্যবস্থাপনার কাজের ধরন ও প্রকৃতি অবস্থাভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও মৌলিকত্বের বিচারে তেমন কোনো ভিন্নতা নেই। পরিবার, রাষ্ট্র, এমনকি বিশ্বের সব দেশের সব প্রতিষ্ঠানে, সব সাংগঠনিক স্তর, সংগঠনের সব কাজের ক্ষেত্রে, ক্ষুদ্রায়তন-বৃহদায়তন সব প্রতিষ্ঠানে উদ্দেশ্য অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হলো ব্যবস্থাপনা। ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে মূলত বিশ্বজুড়ে সর্বক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার প্রয়োগযোগ্যতা ও কার্যকারিতাকে বোঝানো হয়। তাই বলা যায়, ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয়।

গ. উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত স্থানে বাজার নির্দেশ করছে। বাজার হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা এলাকায় কোনো পণ্য বা সেবার বিদ্যমান ও সম্ভাব্য চাহিদার সমষ্টি। কোনো পণ্য বা সেবার জন্য বাজারে চাহিদা থাকলে ওই পণ্য বা সেবার বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ও ব্যবসায় সফলতা লাভ করে।

বিজ্ঞাপন

উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত স্থানে বাজার নির্দেশ করছে। বর্তমানে বাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গণ্য। ব্যবসায় গঠনে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা সহজেই পুঁজি এবং স্বয়ংক্রিয় ও উন্নত যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায় জগতে বাজার সৃষ্টি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বাজার না থাকলে বা বাজার সৃষ্টি করা না গেলে কোনো ব্যবসাই সফলতা লাভ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত স্থানে বাজার নির্দেশ করছে।

ঘ. ‘উদ্দীপকের উপকরণের মাধ্যমেই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব’—মন্তব্যটি যথার্থ।

ব্যবস্থাপনার কার্য সম্পাদনে প্রয়োজন হয় এমন বস্তু বা সম্পদকেই ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়। ব্যবস্থাপনার উপকরণগুলো হলো–মানুষ, মালামাল, যন্ত্রপাতি, পদ্ধতি, বাজার ও অর্থ। এগুলো কোথাও যথেষ্ট পরিমাণে থাকলেই চলে না, এগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হয়।

ব্যবস্থাপনার উপকরণের মধ্যে মানুষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুগত উপকরণাদিকে জনশক্তিই কাজে লাগায়। তাই জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালামাল বলতে উৎপাদন বা বিক্রয় কার্যে অথবা প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার্য কাঁচামাল বা প্রস্তুত পণ্যকে বোঝায়। এরূপ মালামাল মানসম্মত না হলে মানবীয় প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয় না। এরপর আছে যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের হাতিয়ারকে যন্ত্রপাতি বলে। ব্যবস্থাপনার মৌল উপকরণগুলোর মধ্যে যন্ত্রপাতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ বলতে ধন, সম্পত্তি বা বিত্তকে বোঝায়। অর্থনীতির ভাষায় বিনিয়োগের মাধ্যমকে অর্থ বলে। যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য অর্থ প্রয়োজন। অর্থ বা পঁুজি ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না। এরপরে ব্যবস্থাপনা উপকরণের মধ্যে আসে বাজার। বাজার হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা এলাকায় কোনো পণ্য বা সেবার বিদ্যমান ও সম্ভাব্য চাহিদার সমষ্টি। সর্বশেষ ব্যবস্থাপনার উপকরণের মধ্যে আসে পদ্ধতি। কার্য সম্পাদনের জন্য গৃহীত কার্যক্রমকে পদ্ধতি বলা হয়। কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় ও দ্রুত কার্য সম্পাদন হয়।

একটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত কার্য সম্পাদন, সময় সাশ্রয় ও লক্ষ্য অর্জন করার জন্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। আর ব্যবস্থাপনা হলো উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর কৌশল। তাই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনার উপকরণগুলোর কার্যকর সমন্বয় ও ব্যবহার দরকার। যার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন