default-image

প্রথম আলো: কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষকের পুরস্কার পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। কোন কোন যোগ্যতায় আপনি এ পুরস্কার পেলেন?

এ কে এম সাঈদ হাসান: শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীল দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার, গবেষণামূলক প্রকাশনা ইত্যাদি বিবেচনা করে শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক নির্বাচন করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতায় হয়তো আমাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেছি। পিএইচডি করেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মাস্টার্স অব এডুকেশন (এমএড) করেছি। পিএইচডি-পরবর্তী গবেষণা (পোস্টডক্টরাল) করেছি। জার্মানি থেকে আমার বিষয়ভিত্তিক বই প্রকাশিত হয়েছে। আমি সব সময় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ক্লাস নিই। আমার মনে হয়, এভাবে খুব কম শিক্ষকই ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরাও ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। সব বিবেচনায় হয়তো আমাকে শ্রেষ্ঠ কলেজশিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

পাঠদান নিয়ে একটি বড় অভিযোগ হলো, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে সঠিক পাঠদান পায় না। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কোচিং করে। প্রাইভেট পড়ে। আবার কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং করতে বাধ্য করার অভিযোগ আছে। এ নিয়ে কী বলবেন?

সাঈদ হাসান: বর্তমান নিয়মে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ৪০ হওয়ার কথা। অর্থাৎ, ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক থাকবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে এই অনুপাত হবে ১: ৬০। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন একেকটি ক্লাসে শিক্ষার্থী অনেক বেশি থাকে। যেমন আমার কলেজেই উচ্চমাধ্যমিকে একেকটি ক্লাসে (একেকটি সেকশন) ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। এ রকম ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সবাই সবকিছু বুঝতে পারে না। শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঠিক মিথস্ক্রিয়া হয় না। হয়তো শিক্ষার্থী শুনছে বা শুনছে না। যদিও আমি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে ক্লাস নিই। এতে শিক্ষার্থীরা দেখে অন্তত লিখে নিতে পারছে। কিন্তু পরিস্থিতি সবখানে এমন নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি থেকে যায়। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ৩০ করা গেলে প্রাইভেট-কোচিং অনেক কমে যেত। আবার বাস্তবতা হলো, নিচের শ্রেণিগুলো থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট-কোচিংনির্ভর হয়ে আসে। ফলে কলেজে এসেও তারা এ বিষয়ে আগ্রহী থেকে যায়। কলেজে এসেই তারা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে চায়। কোচিং করতে চায়। আমি তিন বছর ধরে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রাইভেট পড়াই না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পড়তে চায়।

আপনি একটি পরামর্শ দিলেন যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত কমিয়ে ১: ৩০ করলে প্রাইভেট-কোচিং অনেক কমে যাবে। কিন্তু এটা কি যথেষ্ট ব্যবস্থা বলে মনে করেন, নাকি আরও কিছু করার আছে?

সাঈদ হাসান: আমি বলেছি, এটি করলে কমবে। তবে শিক্ষকদেরও মনোযোগী হয়ে, দরদ দিয়ে পাঠদান করাতে হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম আরও উন্নত করার সুযোগ আছে।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

সাঈদ হাসান: বর্তমানে শিক্ষার বেশ কিছু ভালো দিক আছে। আবার কিছু কিছু বিষয় নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তুষ্টি আছে। যেমন বলা যায়, সরকার ২০১৮ সালে ৩০৩টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করল, অথচ ওই সব কলেজের শিক্ষকদের এখনো আত্মীকরণ (সরকারি) করা হয়নি। আবার এই আত্মীকরণ করতে গিয়ে কারও কারও ক্ষেত্রে ভুল না থাকার পরও তারা (এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ) ভুল ধরে বসে আছে। আমার ক্ষেত্রেই তারা বলছে, আমার নিয়োগের সময় নাকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশির মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ছিলেন না। অথচ তাঁরা ছিলেন। শুধু তা–ই নয়, আমার একই নিয়োগ বোর্ড ও একই প্রতিনিধির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া আরেকজন শিক্ষককে কিন্তু আত্মীকরণের জন্য বিবেচিত করা হয়েছে। কিন্তু আমাকে করা হচ্ছে না। উপরন্তু, মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতিবেদনেও আমার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রথম আলো: দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও ভালো করার জন্য আপনার পরামর্শ কী?

সাঈদ হাসান: সরকার শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে; যদিও এখনো আমরা তার বিস্তারিত জানি না। তবে মনে রাখতে হবে, সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিও ভালো ছিল। কিন্তু তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। আমি আবার বলব, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত কমাতে হবে। আর প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা কোনোভাবেই ঠিক নয়। শ্রেণিকক্ষেই পাঠদানব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন