বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের কারণে রাজধানীর অনেক স্কুল-কলেজ এখন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শ্রেণিকক্ষের পড়া বাড়ির কাজ হিসেবে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে এটি বেশি হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলামাধ্যমের কিছু বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়া অনুসরন করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চলমান সংকট কবে, কখন শেষ হবে তা নিশ্চিত হতে না পারায় বিকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইংরেজি মাধ্যমের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরতাল-অবরোধে এত দিন টানা ছুটি থাকলেও এখন শুক্র ও শনিবারও ক্লাস নেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু দুই দিনে ক্ষতি না পোষানোয় বাড়িতে পড়ার জন্য বেশি করে হোমওয়ার্ক (এইচডব্লিউ) দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয় অনলাইনেও ক্লাসের পড়া দিচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিছু কিছু বিদ্যালয় স্কুলড্রেস পরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে।
রাজধানীর আনন্দ নিকেতন ইউরোপিয়ান স্কুলের অধ্যক্ষ সামসে আরা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের স্কুল ছুটির দুই দিন ক্লাস নিলেও পাঁচ দিন বন্ধ রাখছে। এর ফলে একাডেমিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা থাকছে না। বাড়িতে পড়া দিলেও তা কেমন হচ্ছে, সেটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
রাজধানীর ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমিনা রত্না প্রথম আলোকে জানান, এত দিন ছুটি থাকলেও এখন শুক্র ও শনিবারও ক্লাস হচ্ছে। এত দিন ইন্টারনেট থেকে নির্ধারিত পড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে। পরে সেগুলো বাড়িতে করিয়ে বিদ্যালয়ে জমা দিতে হয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, বুধ ও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে শুক্র ও শনিবারের স্কুলের সময় ও রুটিন জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন অভিভাবক জানালেন, দ্রুত পাঠ্যক্রম শেষ করতে ছুটির এই দুই দিনে প্রতিটি বিষয়ে একাধিক অধ্যায়ের পাঠদান ও বাড়ির কাজ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝতে বা আয়ত্ত করতে পারছে না।
ধানমন্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইনছান আলী বলেন, যেকোনোভাবে সিলেবাস শেষ করার তাগিদ থাকলেও একটি বিষয় যতটা যত্ন নিয়ে পড়ানো বা বোঝানো দরকার ছিল, সেটি এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠবে না।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন