এখন পাঠককে প্রদত্ত সুডোকুটি দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে। B1 ঘরে শুধু 5 হতে পারে। এটিকে উন্মুক্ত একক বলা হয়। সাধারণত উন্মুক্ত উপসেট হলো সেটা, যার ভুক্তিগুলো দৃশ্যমান। অন্য কোনো ভুক্তির সঙ্গে লুকায়িত থাকে না। যেমন এ ক্ষেত্রে 5 একমাত্র হতে পারে। অবশ্য লুকায়িত ও উন্মুক্তের তফাৎ বুঝতে আমরা A1 ঘরটি দেখি। এ ঘরের সম্ভাব্য ভুক্তি হলো 2, 4, 7। কিন্তু আমরা যদি A সারির বাকি ঘরগুলোর সম্ভাব্য ভুক্তিগুলো দেখি, তাহলে দেখব আর কোনো ক্ষেত্রেই 2 হতে পারে না। শুধু A1 ঘরেই অন্য আর দুটি ভুক্তির সঙ্গে 2 লুকায়িত আছে। এ জন্য এই 2 হলো লুকায়িত একক। একটি উল্লেখ্য বিষয় হলো পাঠককে চিত্রের সুডোকুর মতো সব সম্ভাব্য ভুক্তি বের করতে হবে না। ব্যাখ্যার স্বার্থে প্রদত্ত সুডোকুতে তা দেওয়া হয়েছে।

এবার লুকায়িত ও উন্মুক্ত জোড় প্রসঙ্গ দেখা যাক। আমরা যদি E2 ও F2 দেখি, দেখতে পাব, ঘর দুটিতেই 1 অথবা 5 হবে। এ থেকে বলা যায়, ওই ঘর দুটিতে উল্লিখিত দুটি সংখ্যার জোড় ছাড়া কিছুই হবে না। যদিও কোন ঘরে কী হবে, তা আমরা জানি না, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে এই সংখ্যা দুটিই হবে। এ রকম সংখ্যার জোড়কে উন্মুক্ত জোড় বলে। F7 ও F9 ঘর দুটি দেখে কি পাঠক কিছু বলতে পারবেন? এবার আসা যাক, লুকায়িত জোড়ের হিসাবে। আমরা D1 ও D2 ঘর দুটিতে দেখব বেশ কয়েকটি করে সংখ্যা হতে পারে। কিন্তু এই চতুর্থ উপাঞ্চলে এই দুটি ঘর ছাড়া আর কোথাও 4 ও 6 হতে পারে না। তাই বলা যায়, এই দুটি ঘরে 4 ও 6 হবে। এখন আমরা কিন্তু সরাসরি পাইনি যে ঘর দুটিতে কী হতে পারে। আমরা কিছুটা বিশ্লেষণ করে পেয়েছি। তাই এই জোড়াকে লুকায়িত জোড় বলে। অর্থাৎ উন্মুক্ত উপসেটের উপাদানগুলো সরাসরি ঘরের সম্ভাব্য উপাদান নির্দেশ করে। কিন্তু লুকায়িত উপসেটের উপাদানগুলোকে বিশ্লেষণ করে বের করতে হয়।

এবার D7, D9 ও F7 ঘরের সম্ভাব্য উপাদানগুলো দেখি। এখন একটা জিনিস উল্লেখ্য যে পুরো ষষ্ঠ উপাঞ্চলে এই তিন ঘরেই সম্ভাব্য উপাদান হিসেবে 2, 4, 7 রয়েছে। কিন্তু সেটা সরাসরি দেওয়া নেই। তাই আগের ধারণা থেকে আমরা সহজেই বলতে পারব যে এটি লুকায়িত ত্রয়ের উদাহরণ। অন্যদিকে A2, A8 ও A9 ঘরগুলোতে 1, 4, 9 ছাড়া অন্য কোনো উপাদান নেই এবং A সারিতে আর কোনো ঘরে এগুলো হবেও না। তাই স্পষ্টতই বলা যায়, এটি উন্মুক্ত ত্রয়ের উদাহরণ। পাঠককে বাকি উদাহরণ অনুসন্ধান করতে বলা হচ্ছে।

এবার আমরা চতুষ্টয় নিয়ে আলোচনা করি। এদের মধ্যে লুকায়িত চতুষ্টয় খুবই বিরল এবং খুবই কম সুডোকুতে এ রকম দেখা যায়। আবার অন্যদিকে উন্মুক্ত চতুষ্টয়ও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। সে জন্য এদের সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়নি। চিত্রের লাল সম্ভাব্য সংখ্যাগুলো দেখলে পাঠক হয়তো বুঝতে পারবেন, কোনটি কী বোঝায়। পাঠক লুকায়িত ও উন্মুক্ত কতটুকু বুঝতে সক্ষম হয়েছেন, তা অনুধাবনের সুবিধার জন্য এখানে কিছু ব্যাখ্যা করা হলো না।

সবশেষে উল্লেখ্য, লিখে বা লেখা পড়ে আসলে সুডোকু সমাধান শেখা যায় না। এর জন্য প্রচুর অনুশীলন প্রয়োজন। তাই পাঠককে অনুশীলন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সে জন্য আজকের পর্বের সুডোকুর সমাধান দেওয়া হয়নি। আশা করি, পাঠক তা সমাধান করতে পারবেন।