আনন্দ স্কুলে ঝরে পড়ার হার ৩৭ শতাংশ

রস্ক প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। কিন্তু এরপর শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

রস্ক প্রকল্প থেকে পাস করার পর কিছু শিক্ষার্থী এনজিও পরিচালিত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। রাজধানীর মিরপুরের ‘আলোর ভুবন’ স্কুলে
ছবি: প্রথম আলো

মো. আরিফ ও ইতি আক্তার থাকে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরে প্যারিস রোডে। প্রতিবেশী এই দুই কিশোর-কিশোরী একসঙ্গে ২০১৭ সালে রিচিং আউট অব স্কুল (রস্ক) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত আনন্দ স্কুলে ভর্তি হয়। পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ইতি বোনদের সহায়তায় পড়ালেখা চালিয়ে গেলেও আরিফ পারেনি। চড়া সুদে আনা বাবার ঋণের বোঝা টানতে ফুচকার দোকানে কাজে ঢুকেছে সে।

৬ আগস্ট স্কুলে ইতির সঙ্গে এবং আরিফের বাসায় তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। আরিফের মা ফাতেমা বেগম বললেন, ছেলেটার পড়াশোনার শখ ছিল। সেদিনও বলল, ‘মা, আমি পড়ালেখা করলে এখন ইতির মতো সেভেনে (সপ্তম শ্রেণি) পড়তাম!’

স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রস্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রস্কের প্রথম বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৫ সালে। পরে দ্বিতীয় দফায় রস্ক-২ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, যা ২০২১ সালের জুনে শেষ হয়। প্রকল্পের আনন্দ স্কুল নিয়ে গত জুলাইয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

কিছু ঝরে পড়লেও সার্বিকভাবে এ প্রকল্প সফল। প্রকল্প মূল্যায়নেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সমাপনী পরীক্ষার সময় করোনাকাল ছিল। ওই শিশুদের শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকেরা।
মো. মাহবুব হাসান শাহীন, প্রকল্প পরিচালক (পরিকল্পনা কমিশনে উপসচিব পদে কর্মরত)

‘বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার কার্যকারিতা: রস্ক প্রকল্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, রস্ক প্রকল্পে সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ৩৭ শতাংশ। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ঝরে পড়ার হার ৫৩ শতাংশ এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৯ শতাংশ। ঝরে পড়া শিশুদের প্রায় ৫৭ শতাংশ নানা কাজ করছে। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৭ শতাংশের মতো।

প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর গত বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বিআইডিএস ২০টি উপজেলা ও তিনটি সিটি করপোরেশন এলাকায় জরিপ চালায়। এতে ১০৬টি গ্রাম ও কমিউনিটির ১ হাজার ৮৪০ পরিবার অংশ নেয়। এসব পরিবারের ৯৭ শতাংশের বেশির মাসিক আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।

বিআইডিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের বড় একটি অংশকে স্কুলে আনার মাধ্যমে পড়াশোনার দ্বিতীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে রস্ক। বয়স বেশি হওয়ায় এসব শিশুর মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। গ্রামে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বল ও তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি ছিল। এখনো যেসব শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে প্রকল্পে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ নেওয়া শিশুদের অর্ধেকই প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত নেই।

প্রাথমিক স্তরেই আটকে থাকে বেশির ভাগ

২০০৫ সালে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম রস্কের বাস্তবায়ন শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১৪ সালে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৭ লাখ ২০ হাজার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে রস্ক-২ বাস্তবায়ন শুরু হয়। এ পর্যায়ে শহরের বস্তি এলাকাকেও যুক্ত করা হয়। এতে মোট ব্যয় হয় ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকার গ্রামে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এবং শহরে আটটি এনজিওর মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করে। ২০১৪ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বস্তি এলাকায় ২১টি আনন্দ স্কুলের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প চালু হয়। ২০১৭ সালে ১০টি সিটি করপোরেশনে ৫০ হাজার শিশুকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, রস্ক-২ প্রকল্পে গ্রামের আনন্দ স্কুলের মাধ্যমে ৫১টি জেলার ১৪৮ উপজেলার ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। আর শহরের ৩৪৬টি আনন্দ স্কুলের মাধ্যমে ৪৭ হাজার শিশুর প্রাথমিক শেষ হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছয় মাস করে এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এক বছর করে মোট তিন বছরে প্রাথমিক স্তর শেষ করে রস্ক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা করে পেত।

ঝরে পড়ার হার এত কেন?

প্যারিস রোডের লায়লা বেগম ও মো. হায়দার দম্পতির চার ছেলে। এর মধ্যে বড় দুই ছেলে মো. রায়হান (১৬) ও আবদুল হামিদ (১৫) আনন্দ স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। এরপর দুজনকেই গত বছর গেঞ্জি কারখানায় কাজে দেন মা-বাবা। লায়লা বললেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলে না। তাই ছেলেদের কাজে দিয়েছেন। কিশোর দুই ভাই মাসে ১১ হাজার টাকা আয় করে। রায়হানের ইচ্ছা না থাকলেও হামিদ পড়তে চায়।

একই এলাকার মো. শাহীন চতুর্থ শ্রেণিতেই আনন্দ স্কুল থেকে ঝরে যায়। এখন কাজ করছে মুরগির দোকানে। প্যারিস রোডের আনন্দ স্কুলটি পরিচালনা করত সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ) নামের একটি এনজিও। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঢাকা উত্তর, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬০টি আনন্দ স্কুলে ৭ হাজার ৯৩৬ শিশুকে ভর্তি করে। ঢাকার ১২টি ওয়ার্ডে ৩০টি স্কুলে ৪ হাজার ২২৭ শিক্ষার্থী পড়ত। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শেষ করেছে।

সিপ-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. ফারুক হোসেন বলেন, বস্তির মধ্যে কিছু আছে ভাসমান। সেগুলোতে ঝরে পড়ার হার বেশি। ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয় অন্যতম। এ জন্য শ্রমজীবী অভিভাবকদের মানসিকতাও সমান দায়ী। তাঁরা অপ্রয়োজনে (যেমন চা, পান, সিগারেট ইত্যাদি) অনেক খরচ করেন। কিন্তু পড়াশোনার জন্য খরচ করতে চান না। পরিবারের সবাই মিলে আয় করার লক্ষ্য থাকে তাঁদের। পড়ালেখা করে সন্তান আয় করবে, সে জন্য তাঁরা অপেক্ষা করতে চান না।

প্যারিস রোড ও মিরপুর ৭ নম্বরে চলন্তিকায় দুটি আনন্দ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। কয়েক শিক্ষার্থীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আট-নয় বছরের শিশুকে বেনারসিপল্লিতে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো।

সকালে ঘুম থেকে ওঠা তাদের জন্য কঠিন ছিল। ২০২০ সালের মার্চে চলন্তিকা বস্তিতে আগুন লাগার পর শিশুদের বাড়ির সবকিছু পুড়ে যায়। স্কুলে ১১৪ শিশু পড়ত। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী কমে ৯৭ জন হয়।

তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হাসান শাহীন (পরিকল্পনা কমিশনে উপসচিব পদে কর্মরত) প্রথম আলোকে বলেন, কিছু ঝরে পড়লেও সার্বিকভাবে এ প্রকল্প সফল। প্রকল্প মূল্যায়নেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সমাপনী পরীক্ষার সময় করোনাকাল ছিল। ওই শিশুদের শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকেরা।

প্রাথমিকের পর পড়াশোনার দিকনির্দেশনা নেই

প্রাথমিক পাসের পর শিক্ষার্থীরা নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক বা তারপর কীভাবে পড়াশোনা চালাবে, তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এ কারণে প্রাথমিকের পর অনেকে ঝরে যায়। প্রাথমিক স্তর পাস করা শিশুদের অর্ধেক মাধ্যমিক স্তরে যেতে পারে।

বিআইডিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শেষ করার হার ৭২ শতাংশ। এরপর নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে এদের প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩২ শতাংশের বেশি পড়ছে। উচ্চমাধ্যমিক এবং এর ওপরের পর্যায়ে টিকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হাসান প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের বাইরে গিয়েও শিশুদের স্বার্থে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনজিওকে অনুরোধ করে পঞ্চম শ্রেণি পাস রস্ক শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব শিশু একেবারে পড়াশোনার বাইরে ছিল। আমরা তাদের অন্তত মৌলিক শিক্ষা দিয়েছি, যাতে তারা ভবিষ্যতে বৃত্তিমূলক কিছু করতে পারে।’

মাহবুব শাহীনের কথার সূত্র ধরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্যারিস রোডে আহছানিয়া মিশন পরিচালিত ‘আলোর ভুবন’ স্কুলে যাই। বিনা মূল্যে এ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে।

৬ আগস্ট স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থী মো. মামুন (১৩) শিক্ষকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের হালকা শারীরিক কসরতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আনন্দ স্কুলে প্রাথমিক শেষে সে এই স্কুলে পড়ছে। শিক্ষকেরা বলছেন, মামুন করিতকর্মা, পড়াশোনায় ভালো, উপস্থিত বক্তৃতা দিতে পারে, শিক্ষকদের প্রতিটি নির্দেশ অনুসরণ করে। তবে শিশু হলেও তার জীবন মসৃণ নয়। মাঝেমধ্যে তাকে পরিবারের জন্য কাজ করে উপার্জন করতে হয়।

মামুন জানাল, সে তার আয় থেকে জমিয়ে পড়াশোনা করবে। ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায় সে।

মামুনের মতো রাসেলকেও একইভাবে নিজের আয়ে চলতে হয়। সে-ও আনন্দ স্কুলে পড়ত।

আলোর ভুবন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ২৮ শিক্ষার্থীর ১০ জন আনন্দ স্কুল থেকে এসেছে। এদের একজন ইতি জানাল, বাবা মারা গেছেন। আট ভাই-বোন। বিবাহিত দুই বোনের আয়ে এখন সংসার চলে।

শ্রেণিশিক্ষক মনিরা বিল্লাহ বললেন, ‘ইতি ক্লাসে প্রথম হয়। ওর বোনেরা প্রায়ই দুঃখ করে বলেন, টাকা খরচ করে বোনকে পড়ানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না।’

এই শিক্ষক বলেন, অষ্টম শ্রেণির পর আশপাশের কোনো একটি স্কুলে দুই-আড়াই হাজার টাকা ভর্তি ফি আর মাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেতন দিয়ে পড়তে হবে। ইতির মতো স্কুলের বেশির ভাগ শিশুর খরচ করে পড়ার সামর্থ্য নেই।

প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজের বাইরে ৪৬%

রস্ক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সাল থেকে ৯০টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ যুক্ত করা হয়। পূর্ব কারিগরি প্রশিক্ষণ (পিভিটি) নামে আনন্দ স্কুল পাস ও এর বাইরের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২৫ হাজার জনকে ২৭টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বিআইডিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২২ শতাংশ সেলাইয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। প্রশিক্ষণার্থীদের ৩০ শতাংশ আনন্দ স্কুলের। প্রশিক্ষণের পর প্রায় ৫৪ শতাংশ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছে। ৬৮ শতাংশ স্বনিয়োজিত কাজে যুক্ত। তবে অর্ধেক এমন কাজে বা পেশায় যুক্ত, যা তাদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে মেলে না।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছে এমন ১০ জনের খোঁজ নেয় প্রথম আলো। এদের চারজন প্রশিক্ষণ নিয়েও কোনো কাজে লাগাননি। ইউনিয়নের কোরাচিপাড়ার দশম শ্রেণির ছাত্র মো. শাহীন বলে, সে ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিংয়ের কাজ শিখে ফাঁকে ফাঁকে কাজ করে। একই এলাকার ইয়াকুবও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে।

ইয়াকুবের ভাই নুর মোহাম্মদ বলেন, তিনি কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটারে কাজ করছেন। তবে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া আসারবনিয়া গ্রামের এসএসসি পাশ মো. ইব্রাহিম বেকার। তিনি বলেন, বাড়িতে কম্পিউটার না থাকায় চর্চা নেই। নয়াপাড়ার উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী আফসানা আক্তার ও আমিনা আক্তার কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ নিলেও এখন কম্পিউটারের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়া দেগিলারবিলের মবিনা বেগম বলেন, সেলাইয়ের কাজ করে তাঁর মাসে এক হাজার টাকা আয় হয়। খালার সেলাই মেশিনে ভাগাভাগি করে কাজ করেন। পুরানপাড়ার তাসলিমার মা রশিদা বেগম এবং নাইটংপাড়ার সেলিনা আক্তারের বাবা মো. আজিজ বলেন, তাঁদের মেয়েরা টুকটাক কাপড় সেলাই করে আয় করছেন। তবে পুরানপাড়ার নাহিদা আক্তার (১৮) কোনো আয় করেন না। তাঁর বড় ভাই মো. ইব্রাহিম বলেন, তাঁদের বাসায় সেলাই মেশিন নেই।

বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং জরিপে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম জুলফিকার আলী বলেন, এ দেশে সার্বিকভাবে পড়াশোনার সঙ্গে পেশার সামঞ্জস্য কম থাকে। রস্ক-২ প্রকল্পের প্রশিক্ষণেও তাই দেখা গেছে। অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে কাজ করছেন না। ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প নেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। প্রশিক্ষণের বিষয় এমনভাবে বাছাই করতে হবে, যেন প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা কাজে লাগাতে পারেন। এতে প্রকল্পের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে।