চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১৯ জুন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এতে এসএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ ২২ হাজার পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এ অবস্থায় পরীক্ষা শুরুর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলো।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আগস্টের মাঝামাঝি এই পরীক্ষা শুরু করতে পারব। কিন্তু একটি পূর্বাভাসও আছে ও আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতাও বলে আগস্টের মাঝামাঝি বড় বন্যার আশঙ্কা আছে। দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে আগস্ট বাদ দিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু করতে যাচ্ছি। সার্বিক বিবেচনায় ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছি।’

একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ১৭ আগস্ট এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর জন্য যে লিখিত বক্তব্য তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে ১৭ আগস্ট এই পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে ফোনে জানানো হয়, আগস্টের মাঝামাঝি বন্যা হতে পারে। এ জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের আগে আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি শুরু হলে এ বছরের এইচএসসি কবে শুরু হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মাঝখানে দুই মাসের বিরতির প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে এসএসসি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হলে এইচএসসি নভেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা। কিন্তু এবার শিক্ষা বোর্ডগুলো একটু বেশি কষ্ট করবে। তারা চেষ্টা করবে এসএসসি শুরুর ৪৫ দিন পর এইচএসসি শুরু করতে। এ ক্ষেত্রে নভেম্বরের গোড়ায় এইচএসসি শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য সময় ছিল ২২ আগস্ট। পরে বলা হয়, অক্টোবরে হবে এই পরীক্ষা। এখন তা হবে নভেম্বরে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় এসএসসি ও দাখিলের মোট ১১ হাজার ২৬৮ পরীক্ষার্থীর পাঠ্যবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের নতুন বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য শ্রেণি মিলিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবই দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার প্রমুখ।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন