অবশ্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই কাজ আবার মাউশিতে আনা হলেও অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কা আছে। বরং এখন যেহেতু বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিয়োগ হয়, তাই নিয়োগের সময়ই সবকিছু ভালো করে যাচাই করে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। এরপর বেতন–ভাতার অন্তর্ভুক্তির কাজটি সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মতো করলেই এই সমস্যা থাকে না। এখনকার মতো চার ঘাটে আবেদনের দরকার নেই। এক জায়গায় কাগজপত্র দিয়ে সহজেই এমপিওভুক্ত করতে হবে।

মাউশির সাবেক মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি মাউশিতে এমপিওভুক্তির কাজটি আনা হলে এখানে আবারও অনিয়ম-দুর্নীতি হবে। আগেও মাউশিতে এই কাজে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হতো। তাই ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা না কেটে’ দুর্নীতির পথটি বন্ধ করে দিতে হবে। এ জন্য তদারকি জোরদার করতে হবে।

মাউশির অধীনে বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোর মধ্যে নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানসহ মোট এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২৯ হাজার ১৬৪টি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী আছেন পাঁচ লাখের বেশি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পেয়ে থাকেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জায়গায় কাগজপত্র জমা দিলেই বেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করলে শিক্ষার অনেক সমস্যা কেটে যাবে।
মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান, সভাপতি, বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের

আগে মাউশির প্রধান কার্যালয় সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির কাজটি করত। কিন্তু ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১৫ সাল থেকে মাউশির ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির কাজটি চূড়ান্ত হয়। এ জন্য অনলাইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হয়। উপজেলা কার্যালয় যাচাই-বাছাই করে আবেদনটি জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠায়। সেখানে আরেক দফায় যাচাই শেষে আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয় এবং সেখানেই এমপিও চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এখনো এই কাজে ঘুষ ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

গত বছর প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন ওই চার স্থানে ‘হাদিয়া বা সম্মানী’ দিয়ে আবেদন পাঠাতে (অগ্রায়ণ) হয়। শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঁচ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

বিদ্যমান অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এখন আবারও এই কাজ মাউশিতে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মাউশিতে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থাকা ঢাকার একটি সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে মাউশিতে যখন এমপিওভুক্তির কাজ হতো, সেই অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

তাই যেটি করতে হবে সেটি হলো, এনটিআরসিএর মাধ্যমে যখন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বাছাই হবে, তখনই মাউশিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের রেখে সবকিছু যাচাই করে নিতে হবে। এরপর যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠিয়ে দিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে বেতনের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার কাজটিও সরকারি চাকুরের মতো সহজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জায়গায় কাগজপত্র জমা দিলেই বেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করলে শিক্ষার অনেক সমস্যা কেটে যাবে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন