যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ৪ প্রশিক্ষণ, ৬ মাসের কোর্সে ভর্তি শুরু ১ জুলাই
দেশের কর্মপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হবে। প্রশিক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন’, ‘প্রফেশনাল গ্রাফিকস ডিজাইন’, ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং’ এবং ‘ইলেকট্রনিকস’ ট্রেড। এসব প্রশিক্ষণ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পরিচালিত হবে।
‘কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন’ কোর্সটি দেশের ৬৩টি জেলায় ৭০টি কেন্দ্রে পরিচালিত হবে। এ কোর্সে ভর্তির জন্য ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।
অধিকাংশ কেন্দ্রে ৫০টি করে আসন থাকলেও কয়েকটি কেন্দ্রে ৪০টি আসন রাখা হয়েছে। ঢাকায় ছয়টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং অন্যান্য জেলায় একটি করে কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
একইভাবে ‘প্রফেশনাল গ্রাফিকস ডিজাইন’ কোর্সও ছয় মাসমেয়াদি হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় শহরের পাঁচটি কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪টি আসন রয়েছে এবং ভর্তির জন্য ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। এ কোর্সের ফি এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং’ এবং ‘ইলেকট্রনিকস’ কোর্সে ভর্তির জন্য অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই আবেদন করা যাবে। প্রতিটি কোর্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা। ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং’ প্রশিক্ষণ ৫২টি জেলার ৫৩টি কেন্দ্রে এবং ‘ইলেকট্রনিকস’ প্রশিক্ষণ ৫৯টি জেলার ৬০টি কেন্দ্রে পরিচালিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে।
সব কোর্সের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের ২৮ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নিজ নিজ জেলা কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে হবে।
আবেদনকারীদের অনলাইনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল /-এ আবেদন করতে হবে।
দূরবর্তী এলাকার যুবকদের সুবিধার্থে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র, জেলা কার্যালয় অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
সাক্ষাৎকারের সময় মূল সনদপত্র এবং সদ্য তোলা দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সঙ্গে আনতে হবে।
বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হবে।
রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা বিকাশের মাধ্যমে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা রকেটের মাধ্যমে ভাতা পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণার্থীর নিজস্ব বিকাশ বা রকেট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কোটা সুবিধাও বজায় রেখেছে। দলিত সম্প্রদায়ের (সুইপার, ঋষি ও ডোম) যুবকদের জন্য ৪ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যুবকদের জন্য কোর্স ফি ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বেশ কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কেন্দ্রের শৃঙ্খলা মেনে চলা, নিয়মিত উপস্থিত থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক। তাত্ত্বিক ক্লাস অনলাইন অথবা সশরীর এবং ব্যবহারিক ক্লাস গ্রুপভিত্তিক পরিচালিত হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী দৈনিক উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীরা ভাতা পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের আত্মকর্মসংস্থান বা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, যাঁরা পূর্বে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, তাঁরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। ভর্তির সময় নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রদান বাধ্যতামূলক।