বুটেক্স ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখেন যাঁরা
‘সাহিত্যের সুতোয় বুনি মননের উত্তরীয়’ স্লোগান নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে বুটেক্স (বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়) সাহিত্য সংসদ। নামে সাহিত্য সংসদ হলেও একটা জায়গায় বুটেক্স সাহিত্য সংসদ অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম। শুধু বই পড়া কিংবা সাহিত্যচর্চা নয়, ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বও দিচ্ছেন তাঁরা।
সাপ্তাহিক পাঠচক্র, দেয়াল পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রকাশ তো আছেই, পাশাপাশি মঞ্চ নাটকও করছে বুটেক্স সাহিত্য সংসদ। বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণের মতো কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্বও পালন করছে সংগঠনটি। হুমায়ূন উৎসব বুটেক্স সাহিত্য সংসদের একটি বড় আয়োজন। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছরই এ উৎসব হয়। হুমায়ূন আহমেদের লেখা বিভিন্ন গান, কবিতা পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখর থাকে একটি দিন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা।
মঞ্চনাটকেও তাঁদের আলাদা একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। নীল দর্পণ ও কবর–এর মতো বিখ্যাত নাটকগুলো মঞ্চায়ন করেছেন তাঁরা। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একযোগে কাজ করার আহ্বান পান তাঁরা। ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই নিয়ে অনলাইন লাইব্রেরি চালু হয়ে গেছে।
সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ব্যতিক্রমী কিছু আয়োজনও করে থাকেন তাঁরা। সুযোগ পেলেই সবাই দল বেঁধে চলে যান শিল্পকলা একাডেমির কোনো প্রদর্শনী কিংবা বইমেলায়। এতে নতুন কিছু শেখা যেমন হয়, তেমনি নিজেদের সম্পর্কটাও আরও মজবুত হয় বলে মনে করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলিফ ইসমাইল। বুটেক্স ক্যাম্পাসে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের পরিসরটা আরও বড় করতে চান সভাপতি আশফাক শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্যাম্পাসে পাঠক সংখ্যা আরও বহুগুণে বাড়াতে চাই। আমাদের লাইব্রেরির কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলে সেই কাজটা আরও সহজ হবে।’