ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিবান্ধব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে নানা ধরনের পরিবর্তন। একসময় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীদের বিকল্প সুযোগ হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিবেচনা করা হতো। ধীরে ধীরে সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে বলা যায়। বর্তমানে পছন্দের বিষয়, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিচ্ছে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। আধুনিক পাঠ্যক্রম, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্নের নিশ্চয়তা, গবেষণার সুযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় আস্থার নাম হয়ে উঠেছে।
যাত্রা ও বিকাশ
২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি মাত্র দুটি অনুষদ ও ৬৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মূল্যায়নে শীর্ষ মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সুনাম অর্জন করেছে ডিআইইউ।
নিজস্ব ক্যাম্পাস ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ
ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ১৫০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ডিআইইউর নিজস্ব ক্যাম্পাস, যা ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’ নামে পরিচিত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, সবুজ ও শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, ইনোভেশন ল্যাব, আবাসিক সুবিধা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সুবিশাল খেলার মাঠের মাধ্যমে এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে সমন্বিত ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা। উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ক্যাম্পাসজুড়ে ওয়াই–ফাই সুবিধা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকতে সহায়তা করছে।
কয়েক বছরের ব্যবধানে ডিআইইউ ক্যাম্পাস সবুজে মোড়ানো, পরিবেশবান্ধব শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত। নানা প্রজাতির ফুল, ফল, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষে ঘেরা এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে পড়াশোনার অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
সবুজে ঘেরা পরিবেশের মাঝখানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন লেক ও আধুনিক ভবনগুলো ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। এই নৈসর্গিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মনোযোগ, শারীরিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক ড. গ্রেগ সাইমনস।
লাইব্রেরি ও গবেষণার সুযোগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইব্রেরি। এখানে রয়েছে লক্ষাধিক বই, প্রায় তিন লাখ ই–বুক এবং ৩২ হাজার ৮৭৫টি প্রজেক্ট রিপোর্ট। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৫২ হাজার জার্নাল ও ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি ই–জার্নাল (গবেষণা প্রবন্ধ)। লাইব্রেরিটিতে একই সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে পারেন। কবি নজরুল এডুপ্লেক্স, রবীন্দ্রনাথ নলেজ পার্ক, লাইব্রেরি ক্যাফে ও মাইন্ড ম্যাপিং স্পেস শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
আবাসিক সুবিধা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ডিআইইউতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক সুবিধা। বর্তমানে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের দুটিসহ মোট পাঁচটি আবাসিক হলে রয়েছে সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর আবাসনের সুব্যবস্থা। এসব হলে নিরাপত্তা, মানসম্মত খাবার, ইন্টারনেট ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও র্যাঙ্কিং
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড সাস্টেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বিশ্বে ৪৮৪তম এবং এশিয়ায় ১১২তম অবস্থানে রয়েছে ডিআইইউ।
এ ছাড়া ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের মধ্যে যৌথভাবে প্রথম এবং বৈশ্বিক তালিকায় ৮০১–১০০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিংস ২০২৫’-এ টেকসই উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম এবং বিশ্বে ১০১–২০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে ডিআইইউ। উদ্ভাবনী শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ফর ইনোভেশন ২০২৫’-এ তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, একাডেমিক পরিসর ও শিক্ষার্থী বিনিময়
বর্তমানে বিশ্বের ছয় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাভিত্তিক বহু আন্তর্জাতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, স্কলারশিপ, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছে। একই সঙ্গে ড্যাফোডিলের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাঁদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো–ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাসুম ইকবাল বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের ধারায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একাধিক নতুন ও উদ্ভাবনী একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করেছে।’
বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন ও ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিসহ শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদ, ৩১টি বিভাগ ও একাধিক ইনস্টিটিউট রয়েছে।
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসা ও উদ্যোক্তা অনুষদে বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, রিয়েল এস্টেট, ইসলামিক ফাইন্যান্স, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক), ই–বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।
মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতায় আইন (এলএলবি); ইংরেজি; সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ রয়েছে। প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার এবং রোবোটিকস ও মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও জীবনবিজ্ঞান অনুষদের আওতায় রয়েছে ফার্মেসি, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, পাবলিক হেলথ, ফিজিক্যাল এডুকেশন ও স্পোর্টস সায়েন্স, অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্স এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ। এসব প্রোগ্রাম স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও গবেষণাভিত্তিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সহায়তা
‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার চাকরি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, মক ইন্টারভিউ ও চাকরি মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলছে।
ক্লাব, ক্রীড়া ও ক্যাম্পাস জীবন
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ডিআইইউতে রয়েছে সক্রিয় স্টুডেন্ট ক্লাব ও ক্রীড়া কার্যক্রম। আধুনিক ইনডোর ও আউটডোর সুবিধা, সুবিশাল মাঠ, সুইমিংপুল ও জিম শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিকসসহ নানা খেলাধুলার সুযোগ। এ ছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রীড়া–সক্ষমতার পরিচয় বহন করে।
অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রুটে শতাধিক নিজস্ব বাস নিয়ে পরিবহনসেবা পরিচালনা করছে ডিআইইউ। সুসজ্জিত মেডিকেল সেন্টার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করছে। আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, ক্যাশলেস ও স্মার্ট কার্ড সিস্টেম, স্বাস্থ্যসম্মত ফুডকোর্ট, আধুনিক ল্যাব সুবিধা এবং জীবন ও অভিভাবক বিমার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই ক্যাম্পাস থেকে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।