মেধাবী ছাত্রীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ এ লেভেল স্কলারশিপ চালু করল বিআইটি

‘আনোয়ারা ইসলাম স্কলারশিপ’–এর আওতায় প্রতিবছর একজন মেধাবী ছাত্রী দুই বছরের ‘এ লেভেল’ শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে গ্রহণের সুযোগ পাবেন
ছবি: বিআইটির সৌজন্যে

বাংলাদেশে ‘ও লেভেল’ শেষে আন্তর্জাতিক মানের ‘এ লেভেল’ শিক্ষায় এগিয়ে যেতে এখনো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক ও অন্যান্য বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও প্রকট। সেই প্রেক্ষাপটে একজন মেধাবী ছাত্রীকে প্রতিবছর সম্পূর্ণ বিনা খরচে ‘এ লেভেল’ পড়ার সুযোগ দিতে স্কলারশিপ চালু করেছে দেশের অন্যতম ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল (বিআইটি)।

‘আনোয়ারা ইসলাম স্কলারশিপ’ নামের এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিবছর একজন মেধাবী ছাত্রী দুই বছরের ‘এ লেভেল’ শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে গ্রহণের সুযোগ পাবেন। স্কলারশিপের আওতায় শতভাগ টিউশন ফি ও ভর্তি ফি বহন করা হবে। বিআইটির মতে, দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর মধ্যে শুধু মেধাবী একজন ছাত্রীর জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘এ লেভেল’ শিক্ষার ব্যয় বহনের এমন উদ্যোগ বিরল।

বিআইটি জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ‘আনোয়ারা ইসলাম স্কলারশিপ’-এর প্রথম প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি নয়; বরং অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি। আবেদনকারীদের ‘ও লেভেল’ পরীক্ষায় অন্তত ৯টি বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরের ইতিবাচক অবদানও মূল্যায়নের অংশ হবে। একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

স্কলারশিপটির নামকরণ হয়েছে আনোয়ারা ইসলামের নামে। নারীশিক্ষার প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও অঙ্গীকারই পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিআইটির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সেই আদর্শ থেকেই তাঁর কন্যা লুবনা চৌধুরী ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠা করেন।

স্কলারশিপটি চালু করেছেন বিআইটির বোর্ড পরিচালক আনিকা রহমান। তিনি বিআইটির প্রতিষ্ঠাতা লুবনা চৌধুরীর কন্যা এবং আনোয়ারা ইসলামের নাতনি।

এ প্রসঙ্গে আনিকা রহমান বলেন, ‘আমার নানির বিশ্বাস ছিল, শিক্ষা একজন নারীর জীবন বদলে দিতে পারে। সেই বিশ্বাসকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং অসাধারণ মেধাবী তরুণীদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এই স্কলারশিপ ভবিষ্যতের নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।’