আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীনবরণ–২০২৬ অনুষ্ঠিত
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতকরণ এবং উচ্চশিক্ষার পথচলায় অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীনবরণ–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আশা টাওয়ারের নবম তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মাদ ফারুক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য এস এম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. জাফর সিদ্দিক স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিন ও প্রক্টর নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি নবীনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ানুবর্তিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম হেলাল উজ জামান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনে নিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু ভালো ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হয়। তিনি সরকারের কাছে আশা ইউনিভার্সিটিকে বিভিন্ন ফান্ড প্রদানে সহায়তার আশ্বাস করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আমরা শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনের প্ল্যান করেছিলাম এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলার এক্সপার্টদের সহায়তায় সরকার প্রায় ৩২ কোটি বই ছাপাতে যাচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে। আশা ইউনিভার্সিটি শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে যাচ্ছি, যা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।’
আবদুল খালেক আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আপনাদের বিদেশি ফান্ড ও সরকারের যেকোনো সহায়তা লাগলে আমরা পাশে থাকব।’
আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশও শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করে দেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মাদ কাউছার ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা আলি বন্যা।