প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারায় ইংরেজি

আপনার স্বপ্নের ভবিষ্যতের পেশার কথা ভাবছেন? আপনি কি আধুনিকতম সফটওয়্যার তৈরি করতে চান, বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিচালনা করতে চান, স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করতে চান, কিংবা বাংলাদেশের মাটিতে নিজের কোনো প্রতিষ্ঠান শুরু করতে চান? তাহলে একটি বিষয় জেনে রাখুন: শ্রেণিকক্ষের সাধারণ ইংরেজি শিক্ষা এখন আর যথেষ্ট নয়।

ইংরেজি এখন আর স্রেফ পরীক্ষায় পাস করার বিষয় কিংবা সুন্দর জীবনবৃত্তান্ত লেখার উপাদান নয়। এটি এখন এক বাস্তব সুপারপাওয়ার বা পরম শক্তি, যা আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার, কর্মক্ষেত্রের আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দেয়। কিন্তু মুশকিল হলো, বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে: ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শেখা প্রথাগত ইংরেজির সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার প্রায়শই মিল থাকে না।

নিয়োগকর্তারা অভিযোগ করেন যে নতুন স্নাতকেরা চাকরিভিত্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন। চিন্তা করুন একজন মেধাবী প্রকৌশলীর কথা যিনি ইংরেজির ব্যাকরণ ভালো জানেন, কিন্তু একটি প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার রিপোর্ট কীভাবে লিখতে হয় তা জানেন না; কিংবা এমন একজন ব্যবসায়িক স্নাতকের কথা, যিনি বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে বা দর–কষাকষি করতে পারেন না। তাই আজ শিক্ষকদের সামনে বড় প্রশ্নটি হয়ে উঠেছে, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা কি তাদের নিজ নিজ পেশাগত কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাস্তবে ইংরেজি ব্যবহার করতে পারছে?’

এই ব্যবধান দূর করতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ (সিএলএস) এবং টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (টেসল বিডি) যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ‘ইউল্যাব-টেসল বিডি ২য় আন্তর্জাতিক ইএসপি সম্মেলন’। ‘ESP’ বা ‘ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাসেস’-এর সহজ অর্থ হলো—নির্দিষ্ট পাঠ্যবইয়ের সাধারণ নিয়মের পরিবর্তে বাস্তব ক্যারিয়ারের উপযোগী করে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া। দেশজুড়ে ক্যারিয়ারভিত্তিক ইংরেজিকে শিক্ষার মূল অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে এই সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসছে।

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর ইউল্যাব ক্যাম্পাসে সকাল ৯টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব এবং প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। ইএসপি ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাজ্যের নাইজেল কিলিক সম্মেলনে মূল বক্তা (কি-নোট স্পিকার) হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

বছরের পর বছর ধরে পেশাভিত্তিক বা বিশেষায়িত ইংরেজিকে একটি ঐচ্ছিক বা গৌণ বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সাধারণ ভাষার চর্চা আর যথেষ্ট নয়। ভাষা হলো সুযোগের পথ, অগ্রগতি ও আসল শক্তি। শিক্ষার্থীদের সফল করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে পাঠ্যবই মুখস্থ করার মানসিকতা থেকে বের করে এনে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দিকে নজর দিতে হবে।

এই বিশ্বাস বাস্তবায়নে সম্মেলনটি তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর জোর দিচ্ছে—প্রথমত, শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের সংযোগ ঘটানো; দ্বিতীয়ত, চাকরি-উপযোগী ইংরেজি দক্ষতা কীভাবে তরুণদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে তা তুলে ধরা; এবং তৃতীয়ত, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শিক্ষাকে পেশাগতভাবে উপযোগী করে তুলতে নীতিনির্ধারকদের ব্যবহারিক ও কার্যকর পরামর্শ প্রদান করা।

প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসে যখন সবাই একসঙ্গে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প খাতের কথা শুনবে, শিক্ষকেরা চাকরির প্রয়োজনীয়তা বুঝবেন এবং নীতিনির্ধারকরা উপলব্ধি করবেন কীভাবে ভাষা মানুষের সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করে। শ্রেণিকক্ষে পেশাভিত্তিক ইংরেজি আর উপেক্ষিত কোনো বিষয় হিসেবে থাকতে পারে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য চাকরি-উপযোগী ইংরেজি শিক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে, নিজেদের অনন্য করে তুলতে এবং সফল হতে প্রস্তুত করছে।

শ্রেণিকক্ষে ইএসপি (বিশেষায়িত ইংরেজি) আর কোনো গৌণ কিংবা অবহেলিত বিষয় হয়ে থাকতে পারে না। এই বিশেষায়িত ভাষা শিক্ষাকে দৃশ্যমান, যুগোপযোগী এবং দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সমন্বিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার মানবসম্পদকে শক্তিশালী করতে পারে এবং বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজ কর্মীবাহিনীকে প্রস্তুত করতে পারে। ইউল্যাব-টেসল বিডির এই যৌথ আয়োজন সেই স্বপ্ন নিয়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ আয়োজনের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো।