default-image

১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় মোট তিনটি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে একটি পরীক্ষা হবে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য, আরেকটি মানবিকের জন্য এবং অপরটি ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে এর মধ্যেই বিভাগ পরিবর্তনেরও সুযোগ থাকবে। এর মানে একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী নিজ নিজ বিভাগে একটি পরীক্ষা দিয়েই যোগ্যতা ও আসন অনুযায়ী যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

গতকাল মঙ্গলবার ওই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সভায় গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত বছর থেকে দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছিল। এবার ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। অনলাইনে নয়, সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা হবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোট তিনটি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যেই বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। গুচ্ছে থাকা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র থাকবে। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী বেশি হলে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কেন্দ্র করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অধ্যাপক মীজানুর রহমান গতকালের সভায় বলেছিলেন, এই পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের একটি স্কোর দেওয়া হবে। এরপর গুচ্ছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ শর্ত ও চাহিদা উল্লেখ করে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। পরীক্ষায় পাওয়া স্কোর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে।

ইউজিসি জানায়, যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউজিসির এক কর্মকর্তা জানান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গেও শিগগিরই বৈঠক করা হবে। সেখানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকালের সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই।

default-image

এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা ছাড়াই জেএসএসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করবেন। এ মাসেই মূল্যায়নের ফল ঘোষণা করার কথা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি পরীক্ষা হবে।
বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না। বাকি ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা করা হয়। এগুলোতে ৬০ হাজারের কিছু বেশি আসন আছে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও আর্থিক খরচ কমাতে কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ বা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। গুচ্ছগুলোর মধ্যে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে আরেকটি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন