প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। প্রাথমিক বিজ্ঞান: প্রশ্নগুলো বর্ণনামূলক, উত্তরও বড়
প্রাথমিক বিজ্ঞান: বর্ণনামূলক প্রশ্ন
অধ্যায়-১
প্রশ্ন: বনজ আবাসস্থল কীভাবে সৃষ্টি হয়? সুন্দরবনের দুটি উদ্ভিদের নাম লেখো। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের কোন বনভূমিতে পাওয়া যায়, তা উল্লেখ করো।
উত্তর: বনজ আবাসস্থল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। যখন কোনো স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, তখন সেখানে বনভূমি সৃষ্টি হয়। এই বনভূমিই পরে প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়, যা বনজ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
সুন্দরবনের দুটি উদ্ভিদ হলো—
১. সুন্দরী ও ২. হিজল।
আমাদের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু সুন্দরবনেই বাস করে।
প্রশ্ন: মরুজ আবাসস্থলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী? এই অঞ্চলের তিনটি উদ্ভিদের নাম লেখো। তীব্র সূর্যতাপ থেকে বাঁচার জন্য মরুভূমির ছোট ছোট প্রাণী কী কৌশল অবলম্বন করে?
উত্তর: মরুজ আবাসস্থলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—১. উচ্চ তাপমাত্রা,
২. কম বৃষ্টিপাত,
৩. দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য এবং ৪. শুষ্ক আবহাওয়া।
এই অঞ্চলের তিনটি উদ্ভিদ হলো—
১. খেজুর, ২. ফণীমনসা এবং ৩. বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস।
তীব্র সূর্যতাপ থেকে বাঁচার জন্য মরুভূমির ছোট ছোট প্রাণী দিনের বেলা মাটির নিচে গর্ত খুঁড়ে বসবাস করে।
প্রশ্ন: মেরু অঞ্চল বলতে কী বোঝায়? এই অঞ্চলে জন্মায়, এমন দুটি উদ্ভিদের নাম লেখো। মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের এমন তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো, যা তাদের মেরু অঞ্চলে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
উত্তর: পৃথিবীর বরফে ঢাকা অঞ্চলকে মেরু অঞ্চল বলা হয়।
মেরু অঞ্চলে খুব কম উদ্ভিদ জন্মায়, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো—
১. আর্কটিক উইলো ও
২. কটন গ্রাস।
মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো—
১. তীব্র ঠান্ডায় টিকে থাকার জন্য এদের চামড়ার নিচে পুরু চর্বির স্তর থাকে।
২. এদের দেহ সাদা লোমে ঢাকা থাকায় বরফের সঙ্গে সহজে মিশে গিয়ে আত্মরক্ষা ও শিকার করতে পারে।
৩. এদের লম্বা, বাঁকানো ও শক্তিশালী পা বরফে চলার জন্য অভিযোজিত হয়।
প্রশ্ন: সামুদ্রিক পরিবেশে প্রাণীর অভিযোজন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জলজ পরিবেশের সবচেয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল হলো সামুদ্রিক পরিবেশ। এই পরিবেশে প্রাণীদের পানির লবণাক্ততা ও গভীর পানির প্রবল চাপ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে হয়। সামুদ্রিক মাছের দেহও পানির ঢেউয়ের সঙ্গে চলার জন্য বিশেষভাবে গঠিত। এদের মাথা ও লেজের দিক সরু ও মধ্যভাগ চওড়া হয়। এদের পাখনা ও লেজ সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। কিছু সামুদ্রিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর ফুসফুস দীর্ঘ সময় বাতাস ধরে রাখতে পারে। অনেক প্রাণী শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য আলো, রং ও বিষাক্ত তরল ব্যবহার করতে পারে।
প্রশ্ন: জীবজগতে কী কী ধরনের আবাসস্থল দেখা যায়? পরিবেশের ভিন্নতার সঙ্গে জীবের বৈচিত্র্যের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যেখানে কোনো জীব স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে, তাকেই আবাসস্থল বলে। জীবজগতে প্রধানত দুই ধরনের আবাসস্থল দেখা যায়, যথা—১. স্থলজ ও ২. জলজ আবাসস্থল।
স্থলজ আবাসস্থল আবার বনজ আবাসস্থল, তৃণভূমি, মরুজ আবাসস্থল, মেরু আবাসস্থল ইত্যাদিতে বিভক্ত।
পরিবেশের ভিন্নতার সঙ্গে জীবের বৈচিত্র্য সরাসরি সম্পর্কিত। যেমন স্থলজ পরিবেশের প্রাণীদের ফুসফুস থাকে, কিন্তু জলজ প্রাণীদের শ্বাসকার্যের জন্য ফুলকা থাকে। একইভাবে মরুভূমির উদ্ভিদের অভিযোজন বনভূমির উদ্ভিদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্রশ্ন: সুন্দরবন কী? এ বনের দুটি প্রাণীর নাম লেখো। সুন্দরীগাছের মূলের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সুন্দরবন একটি বনজ আবাসস্থল। এটি নোনা পানির জলাভূমিরও একটি উদাহরণ।
সুন্দরবনে বাস করে, এমন দুটি প্রাণী হলো—
১. রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
২. হরিণ।
সুন্দরবনের মাটি লবণাক্ত ও ভেজা হওয়ায় সুন্দরীগাছের মূল প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। তাই কিছু শাখা মূল মাটির ওপরে উঠে আসে। এই ওপরে উঠে আসা মূলগুলোকে শ্বাসমূল বলে, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণে সাহায্য করে।
মিজানুর রহমান, শিক্ষক
ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা