বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়–৫ ∎ বিস্তৃত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কীভাবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়?
উত্তর: মুক্তিবাহিনীর বহুমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী দুর্বল হতে থাকে। অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকেই অনেক অঞ্চল মুক্ত হতে থাকে।
২১ নভেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে যৌথ বাহিনী গঠন করে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ভারতে বোমা হামলা করে। জবাবে যৌথ বাহিনী একযোগে স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে যৌথ বাহিনীর প্রধান জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়।
প্রশ্ন: মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চারটি বীরত্বসূচক খেতাব সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চারটি বীরত্বসূচক খেতাব দেওয়া হয়।
১. বীরশ্রেষ্ঠ: মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্বের জন্য দেওয়া হয়।
২. বীর উত্তম: অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য দেওয়া হয়।
৩. বীর বিক্রম: বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেওয়া হয়।
৪. বীর প্রতীক: সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য দেওয়া হয়।
এ চার খেতাব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি বহন করে।
প্রশ্ন: জাতীয় দিবস পালনের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: জাতীয় দিবসগুলো আমাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়।
এসব দিবসের মাধ্যমে আমরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ও জাতীয় বীরদের সম্পর্কে জানতে পারি।
জাতীয় দিবস আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে। এগুলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
জাতীয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়।
নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে জাতীয় দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা উচিত।
রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা