যে পদে কোনো নাম বোঝায়, তা–ই বিশেষ্য

এআই/প্রথম আলো

 বাংলা ২য় পত্র: ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (পদ)

প্রশ্ন: বিশেষ্য পদ কাকে বলে? বিশেষ্য পদের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।

উত্তর: যে পদে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, কাজ বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 

যেমন বাংলাদেশ, বই, নদী, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 

বিশেষ্য পদের সাতটি শ্রেণিবিভাগ আছে। 

যেমন:

১. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য: যেসব বিশেষ্য পদে কোনো নির্দিষ্ট স্থান, নদী, পর্বত, সমুদ্র, প্রসিদ্ধ গ্রন্থ বা ব্যক্তির নাম বোঝায়, তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলা হয়। যেমন আকবর, রানা, ঢাকা, তাজমহল ইত্যাদি।

২. স্থানবাচক বিশেষ্য: যেসব বিশেষ্য পদে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নাম বোঝায়, তাকে স্থানবাচক বিশেষ্য বলা হয়। যেমন ঢাকা, রাজশাহী, ময়নামতি ইত্যাদি।

৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদের সাহায্যে কোনো বস্তু বোঝায় এবং যার সংখ্যা নির্দেশ করা যায় না, শুধু পরিমাণ নির্দেশ করা যায়, তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন চিনি, পানি, লবণ ইত্যাদি।

৪. জাতিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদের সাহায্যে কোনো প্রাণী বা বস্তুর জাতি বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন মানুষ, মুসলমান, হিন্দু ইত্যাদি।

৫. গুণবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদে কোনো গুণ, অবস্থা ও ভাবের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন সুখ, দুঃখ, দয়া, বীরত্ব ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়াবাচক বা ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন ঘুমান, গমন, যাওয়া ইত্যাদি।

৭. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদে সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন জনতা, সমিতি, সভা, দল ইত্যাদি।

প্রশ্ন: বিশেষণ পদ কাকে বলে? বিশেষণ পদের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।

উত্তর: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের যে পদে দোষ, গুণ, অবস্থা বা সংখ্যা বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে। 

যেমন ভালো, মন্দ, লাল, কালো, সুন্দর, মূর্খ, এক, দুই ইত্যাদি। 

ভালো ছেলে—এই বাক্যে ‘ভালো’ পদের গুণ বোঝাচ্ছে বলে ‘ভালো’ পদটি বিশেষণ। 

বিশেষণকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—

১. নাম বিশেষণ

২. ভাব বিশেষণ

নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো নাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন সে সবুজ জামা পরেছে। অতি উত্তম কথা। এসব বাক্যে ‘সবুজ’ ও ‘অতি’ নাম বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

নাম বিশেষণকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বা অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন গরম চা। সাদা পোশাক।

২. সংখ্যাবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ সংখ্যা নির্দেশ করে, তাকে সংখ্যাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা। দু শ লোক।

৩. পরিমাণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে, তাকে পরিমাণ বাচক বা মাত্রাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন অনেক পানি, প্রচুর টাকা।

৪. ক্রমবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ দিয়ে কোনো পর্যায়ক্রমিক স্থান বা ক্রম নির্দেশ করে, তাকে ক্রমবাচক বা পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন একাদশ শ্রেণি। নবম দিন ইত্যাদি।

ভাব-বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদ ছাড়া অন্য পদের দোষ, গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে ভাব-বিশেষণ বলে। যেমন আস্তে হাঁটো। কম কথা বলো ইত্যাদি।

ভাব-বিশেষণ দুই প্রকার। যেমন—

১. ক্রিয়া বিশেষণ

২. বিশেষণের বিশেষণ

ক্রিয়া বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ বাক্যের ক্রিয়াপদের গুণ, অবস্থা, প্রকৃতি ইত্যাদি নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন তাড়াতাড়ি চল। দিন ভালো যাচ্ছে না। জিনিসটা সাবধানে রাখো।

বিশেষণের বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষণের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে। যেমন সে খুব আস্তে হাঁটে, মনোয়ারা খুব ভালো মেয়ে।


মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা