জীবজগতের বেশির ভাগ খাদকই প্রাণী

বিজ্ঞান: সৃজনশীল প্রশ্ন

সবুজ উদ্ভিদ → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ 

→ সাপ → ঈগল

প্রশ্ন

ক. বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে?

খ. তৃণভোজী প্রাণীরা কোন স্তরের খাদক? ব্যাখ্যা করো।

গ. রেখাচিত্রটি কিসের? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. রেখাচিত্রে ঘাসফড়িংয়ের উপদ্রব বেড়ে গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর 

ক. বাস্তুতন্ত্র: একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায় এবং এর জড় উপাদানগুলোর পারস্পরিক আন্তক্রিয়ার ফলে ওই স্থানে যে অনুকূল বসবাসরীতি গড়ে ওঠে, সেই প্রপঞ্চকে বাস্তুতন্ত্র বলে।

খ. যেসব জীব সবুজ উদ্ভিদের মতো সৌরশক্তি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং অন্য জীবকে ভক্ষণ করে পুষ্টির প্রয়োজন মেটায়, তাদের খাদক বলে। জীবজগতের বেশির ভাগ খাদকই হলো প্রাণী। খাদক জীবগুলো খাদ্যের জন্য বা পুষ্টির জন্য অন্য জীবের ওপর নির্ভর করে বলে এদের পরভোজী বলে। খাদক প্রাণীগুলোর তিনটি স্তরভেদ আছে। যেমন: প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক ও তৃতীয় স্তরের খাদক। তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। এরা উদ্ভিদ তথা উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কাজেই এরা প্রথম স্তরের খাদক।

গ. রেখাচিত্রটি খাদ্যশৃঙ্খলের। উৎপাদক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত শৃঙ্খল আকারে খাদ্য ও খাদকের মধ্যে যে সরল ধারাবাহিকতা দেখা যায়, তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে। উৎপাদকের দেহে আবদ্ধ খাদ্যশক্তি তৃণভোজী প্রাণীর দেহে যায়। 

  সেখান থেকে দ্বিতীয় স্তরের খাদকের দেহে, দ্বিতীয় স্তরের খাদক থেকে তৃতীয় স্তরের খাদকে এবং সবশেষে বিয়োজকের মাধ্যমে পরিবেশে মুক্ত হয়। রেখাচিত্রে সবুজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িংকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ব্যাঙ, ব্যাঙকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে সাপ বা ঈগল। ঈগল থেকে বিয়োজকের মাধ্যমে শক্তি পরিবেশে মুক্ত হয়, এটাই খাদ্যশৃঙ্খল।

ঘ. রেখাচিত্রে ঘাসফড়িংয়ের উপদ্রব বেড়ে গেলে সবুজ উদ্ভিদ ঘাসফড়িং দ্বারা আক্রান্ত হবে। ফলে সবুজ উদ্ভিদের সংখ্যা ও পরিমাণ কমে যাবে। খাদ্যের অভাবে তখন ঘাসফড়িং কমে যাবে। ঘাসফড়িংয়ের সংখ্যা কমে গেলে ব্যাঙ পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না। ফলে খাদ্যের অভাবে ব্যাঙের সংখ্যা কমে যাবে। ব্যাঙের সংখ্যা কমে গেলে খাদ্যের অভাবে সাপ ও ঈগলের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে গোটা খাদ্যশৃঙ্খলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান,

প্রভাষক সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা