এসএসসি ২০২৬। বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন—বৈশাখের শক্তি হলো অন্যায়ের প্রতিবাদ

ছবি: প্রথম আলো ফাইল ছবি

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

বোশেখ

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সিলেটে বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণের আয়োজন করা হয়। দরিদ্র আবুলের পরিবারে লোকজন বেশি থাকায় দুবার ত্রাণ নিতে আসে। এই অনিয়মের দায়ে তার কার্ড বাতিল করা হয়। বরাদ্দের চেয়ে কম চাল দেওয়ার প্রতিবাদ করলে আবুলকে প্রহার করে রিলিফ ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমন সময় দিদার চৌধুরী এলে তাকে এক মণ চাল ও অন্য ত্রাণসামগ্রী দেন ত্রাণ কমিটির প্রধান কর্তাব্যক্তি।

প্রশ্ন

ক. ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ কী?

খ. পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সঙ্গে রিলিফ কমিটির আচরণের মাধ্যমে ফুটে ওঠা দিকটি ‘বোশেখ’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার একটা খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়—যুক্তিসহ বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর

ক. ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ থামো।

খ. কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন, কারণ তিনি চান যে বৈশাখের বিধ্বংসী শক্তি যেন শুধু গরিবের ক্ষতি না করে; বরং ধনীদের নির্মমতাকেও প্রতিহত করুক। কবি লক্ষ করেন যে প্রকৃতির এই শক্তি গরিবদের ঘর, বাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস করে, কিন্তু ধনীদের প্রাসাদে কোনো ক্ষতি ঘটে না। তাই কবি চান পবন, যার হাতে এমন শক্তি, গরিব ও ধনী সবার প্রতি সমানভাবে কাজ করুক এবং শোষণকারী ধনীদের অট্টালিকা ধ্বংস করুক, যেন প্রকৃতি সবার ওপর ন্যায্যভাবে প্রতিশোধ নেয়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি ‘বোশেখ’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো দরিদ্রদের প্রতি সামাজিক অবিচার ও শোষণের চিত্র।

উদ্দীপকে, ত্রাণ কমিটির আচরণে পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে যে দরিদ্রদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব গ্রহণ করা হয়, যেমন আবুলের পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত করা হয়, ধনীদের প্রতি বৈষম্য করা হয় না।

‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী শক্তির মাধ্যমে সমাজে চলমান এই বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি সেখানে গরিবের দুর্দশা তুলে ধরে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং ধনী শ্রেণির প্রতি তাঁর ক্ষোভও স্পষ্ট।

কবি যেমন বৈশাখের শক্তি দিয়ে ধনী শোষকদের নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন, তেমনি উদ্দীপকে দরিদ্রদের প্রতি ত্রাণ কমিটির পক্ষ থেকে হওয়া অবিচারও সমাজের অঙ্গীকারহীনতা ও অন্যায় পরিস্থিতির প্রতিবাদ।

ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার একটা খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়’—এই মন্তব্য যথার্থ। কারণ, উদ্দীপকটি শুধু কবিতার একটি দিক তুলে ধরেছে, যেখানে দরিদ্রদের প্রতি অবিচার ও শোষণ দেখানো হয়েছে। উদ্দীপকে ত্রাণ কমিটির দরিদ্রদের প্রতি নির্দয় আচরণ ও বৈষম্য ফুটে উঠেছে, যেমন আবুলের পরিবারকে ত্রাণ না দেওয়া এবং আবুলকে প্রহার করা। কিন্তু ‘বোশেখ’ কবিতার পুরো চিত্রটি আরও বিস্তৃত, যেখানে কবি শুধু দরিদ্রদের প্রতি অবিচার নয়; বরং পুরো সমাজের অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।

কবিতায় বৈশাখের বিধ্বংসী শক্তির মাধ্যমে কবি সমাজের শোষণ ও অশান্তির চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে গরিবদের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, অথচ ধনীদের কোনো ক্ষতি হয় না। কবি বৈশাখের কাছে আবেদন করেছেন, যদি ধ্বংসই করতে হয়, তবে তা যেন শোষকদের ওপরেই হানা দেয়।

 উদ্দীপকটি এই পুরো বিষয়টি দেখানোর পরিবর্তে শুধু দরিদ্রদের প্রতি শোষণের একটি দিক দেখাচ্ছে। কিন্তু ‘বোশেখ’ কবিতা পুরো সামাজিক অবস্থা, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যা উদ্দীপকের তুলনায় অনেক বড় ও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা