প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। বাংলা: ‘শব্দদূষণ’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো
অনুচ্ছেদ পড়ো, মূল ভাব লেখো
বাংলা: মূল ভাব লিখন
প্রশ্ন: ‘শব্দদূষণ’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো।
উত্তর: আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে শব্দের প্রভাব অনেক। সারা দিন নানা প্রয়োজনে আমরা শব্দ ব্যবহার করি। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দ আমাদের জন্য ক্ষতিকর। একে শব্দদূষণ বলে। শহরে হাজার রকমের শব্দ আমাদের কান ঝালাপালা করে দেয়। অন্যদিকে গ্রামে শব্দদূষণ অনেক কম। তাই সেখানে মনের শান্তি বজায় থাকে।
প্রশ্ন: ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো।
উত্তর: ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ কবিতায় ইমদাদ হক নামের এক ফুটবল খেলোয়াড়ের ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়েছে। খেলায় জয়ী হওয়াই ইমদাদ হকের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। নিজের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, খেলায় সে কখনো বিরতি দেয় না। প্রতিদিন ফুটবল খেলে সন্ধ্যায় সে সারা শরীরে আঘাত নিয়ে মেসে ফিরে। সারা রাত তার যন্ত্রণা আর চিৎকারে সবার ঘুম হারাম হয়ে যায়। কিন্তু সকাল হলেই ইমদাদ হক আবার ফুটবল মাঠে হাজির হয়। তার চেষ্টাতেই তার দল খেলায় জয়ী হয়। নিজের কাজের প্রতি তার নিষ্ঠার কথাই বলা হয়েছে এ কবিতায়।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদের মূল ভাব লেখো।
যেকোনো দেশের জন্যই জীবজন্তু, পশুপাখি এক অমূল্য সম্পদ। যে দেশে যেমন আবহাওয়া ও জলবায়ু, সে দেশে তেমন উপযোগী প্রাণী বাস করে। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, পৃথিবীতে অপ্রয়োজনীয় প্রাণী বা বৃক্ষলতা বলতে কিছুই নেই। একসময় আমাদের দেশে অনেক শকুন দেখা যেত। এরা উড়ে বেড়াত আকাশের অনেক ওপর দিয়ে। বাসা করত গাছের ডালে। মানুষের পক্ষে যা ক্ষতিকর, সেসব আবর্জনা শকুন খেত এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখত। শকুন দেখতে সুন্দর নয়, তবে মানুষের অনেক উপকার করে। কিন্তু শকুন এখন বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় পাখি।
মূল ভাব: প্রতিটি দেশের জন্যই তার প্রাণী ও পশুপাখি অমূল্য সম্পদ। একটি দেশের পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে সেই দেশে উপযোগী প্রাণী বাস করে। পৃথিবীতে কোনো প্রাণী বা গাছই অপ্রয়োজনীয় নয়। একসময় বাংলাদেশে প্রচুর শকুন দেখা যেত। এরা ক্ষতিকর আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখত। তবে এখন শকুন বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় পাখি।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদের মূল ভাব লেখো।
রানি একদিন নদীর ঘাটে স্নান করতে যান। কোথা থেকে জানি একটা মেয়ে এসে হাজির। মেয়েটি বলল, রানির যদি দাসীর দরকার হয়, তো সে দাসী হবে। রাজার শরীর থেকে সুচ খোলার জন্য একজন লোকের দরকার ছিল। তখন রানি কাঞ্চনমালা সেই মেয়েটাকে হাতের সোনার কাঁকন দিয়ে কিনে নিলেন। তাই তার নাম হলো কাঁকনমালা। কাঁকনমালার কাছে গায়ের গয়নাগুলো রেখে রানি নদীতে ডুব দিতে গেলেন। আর চোখের পলকে কাঁকনমালা রানির সব শাড়ি-গয়না পরে নিল। রানি ডুব দিয়ে উঠে দেখেন, দাসী হয়ে গেছে রানি আর রানি কাঞ্চনমালা হয়ে গেছেন দাসী। তখন নকল রানি কাঁকনমালার ভয়ে কাঁপতে থাকেন কাঞ্চনমালা। কাঁপতে থাকে রাজপুরীর সবাই।
সবাই ভাবতে থাকে, তাদের রানি তো আগে এমন ছিল না।
মূল ভাব: রানি একদিন নদীতে স্নান করতে গেলে এক মেয়ে তার দাসী হতে চায়। তখন রানি তাকে সোনার কাঁকন দিয়ে কিনলে ‘তার নাম হয় কাঁকনমালা। একদিন রানি স্নান করতে গেলে কাঁকনমালা তার সব গয়না ও শাড়ি পরে নেয়। ফলে রানি হয়ে যায় দাসী আর দাসী হয়ে যায় রানি। নকল রানিকে দেখে সবার সন্দেহ হয়। কারণ, সে আগের রানির মতো ছিল না।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদের মূল ভাব লেখো।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ উপাধি দেন। তাই উপাধিসম তাঁর নাম, যার ন্যায় জগদীশচন্দ্র বসু। সে বছরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বসু বিজ্ঞান মন্দির। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি সেই বিজ্ঞান মন্দিরে গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি ক্রেসকোগ্রাফ নামের একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি সূক্ষ্মভাবে প্রমাণ করে দেখান যে বিভিন্ন পরিণতিতে উদ্ভিদ প্রাণীদের মতোই সাড়া দেয়। স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর সফলতা বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ ছিল।
মূল ভাব: ১৯১৭ সালে জগদীশচন্দ্র বসু ‘নাইট’ উপাধি পান এবং বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কার করে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও অনুভূতি আছে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। বিজ্ঞানে তাঁর অবদান গ্যালিলিও ও নিউটনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের গর্ব এবং বিশ্বের এক অনন্য বিজ্ঞানী।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদের মূল ভাব লেখো।
হাতিটা এমন ভাব করতে শুরু করল, সেই বুঝি বনের গুরুগম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো প্রবল শক্তিধর সিংহ। হাতিটার কাছে আসতে ভয় পায়। হালুম বাঘ মামা, সে–ও হাতিটার কাছে ঘেঁষতে চায় না। বনের সবাই ভয়ে তটস্থ ও শঙ্কিত। কখন কী হয়। একবার হাতি নিরীহ একটা হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে ছুড়ে দিল দূরে। আরেকবার ছোট্ট একটা খরগোশকে পায়ের তলায় পিষে ফেলল। সেই থেকে বনের কোনো প্রাণী হাতিটার ছায়াও মাড়াত না।
মূল ভাব: হাতিটি বনের রাজার মতো আচরণ করতে শুরু করল। শক্তিধর সিংহ-বাঘ তার কাছে যেতে ভয় পেত। একদিন হাতিটি একটি হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে ছুড়ে ফেলল, একটি খরগোশকে মেরে ফেলল। এরপর বনের কোনো প্রাণী হাতির কাছে ঘেঁষতে সাহস পেত না। এভাবে সে দিন দিন আরও অহংকারী হয়ে উঠেছিল আর বনের প্রাণীরাও ভয়ে ছিল।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা