প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী বেশি
এবার প্রাথমিকে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ছাত্র ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩২ হাজার ৯৬৫ জন ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ শিক্ষার্থী।
আজ রোববার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫–এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ। পরে নির্ধারিত পদ্ধতি ফলাফল পেয়েছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেদিন হয়নি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই ওই ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার ফলাফল নির্ধারিত লিংকগুলোতে আপলোড করা হয়েছে। এরপর লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অসদাচরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এবার সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন।
মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন বালক ও দুজন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে)।
এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি (সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৮০ শতাংশ ও বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ২০ শতাংশ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল, তবে সব কটি কোটা পূরণ হয়নি। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪২০ জন সরকারি বিদ্যালয়ের এবং ৯ হাজার ৮৬১ জন বেসরকারি বিদ্যালয়ের।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার সবচেয়ে বেশি বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলা থেকে (৪৬৮২ জন) এবং সবচেয়ে কম পেয়েছে বান্দরবান জেলা থেকে (১৮৮ জন)। আর সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলায় (৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ) এবং বেশি উপস্থিত ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায় (৮১ দশমিক ৬১ শতাংশ)।
বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা পাবে
প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা এই হারে টাকা পাবে। তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে।
বৃত্তি পরীক্ষার ফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একসময় নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রাথমিকে হঠাৎ বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আবারও চালুর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের শেষে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়। গত এপ্রিলে জটিলতা কাটিয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখন তার ফল প্রকাশ করা হলো।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।