এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: গণিত- অনুশীলন করো প্রতিদিন, রিভিশন দিয়ো পরীক্ষার খাতায়
গণিত: পরামর্শ
প্রিয় পরীক্ষার্থী, গণিত নিয়ে তোমরা কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা করবে না। তুমি সারা বছর গণিতের যা যা অনুশীলন করেছ, তা থেকেই প্রশ্ন হবে।
∎ অনুশীলন জরুরি
প্রতিদিন গণিত অনুশীলনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নাও। একসঙ্গে কয়েকটি অধ্যায় অনুশীলন করবে না। একটি একটি করে অধ্যায় অনুশীলন করো। প্রয়োজনে সহপাঠী বা বিষয় শিক্ষকদের পরামর্শ নাও। পারোনি বলে ফেলে রাখবে না, চেষ্টা করো।
∎ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর শিখনে গুরুত্ব দাও। পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল অংশে আলাদা আলাদাভাবে ৩৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়। তা ছাড়া বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বহুনির্বাচনি অংশে পূর্ণ নম্বর পাওয়া জরুরি। কম সময়ে সঠিকভাবে উত্তরগুলো পারার জন্য অধ্যায়ভিত্তিক মৌলিক ধারণাগুলো অনুশীলন করবে।
∎ জেনে নাও বহুনির্বাচনি অংশ কেমন হবে
— ‘ক’ বিভাগে (বীজগণিত) ১০ থেকে ১২টি প্রশ্ন থাকবে,
— ‘খ’ বিভাগে (জ্যামিতি) ১০ থেকে ১৩টি প্রশ্ন থাকবে,
— ‘গ’ বিভাগ (ত্রিকোণমিতি ও পরিমিতি) ও ‘ঘ’ বিভাগ (পরিসংখ্যান) থেকে ৫টি প্রশ্ন থাকবে।
∎ বহুনির্বাচনির উত্তরে বৃত্ত ভরাট
বহুনির্বাচনি অংশে প্রশ্ন থাকবে ৩০টি। প্রতিটিতে ১ করে নম্বর। ৩০টির উত্তর করতে হবে। সময় থাকবে ৩০ মিনিট। এ সময়ের মধ্যেই বোর্ড প্রদত্ত OMR শিটে প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে একটি করে মোট ৩০টি বৃত্ত কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে ভরাট করতে হবে। মনে রেখো, একটি প্রশ্নের বিপরীতে একাধিক বৃত্ত ভরাট করা যাবে না। ভুল করে ভরাট করেছ বলে কেটেও দেওয়া যাবে না। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে ৪০–৫০ সেকেন্ড লাগবে। কোনোটি আবার ৬০–৭০ সেকেন্ড লাগবে। দু–চারটির উত্তর করতে রাফ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মূল খাতার পেছনের কোনো একটি পৃষ্ঠা ব্যবহার করতে পারবে। নির্ধারিত সময়েই সব কটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।
∎ সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন
এ বছর পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত–উত্তর প্রশ্ন থাকবে। মোট নম্বর থাকবে ২০। প্রতিটি প্রশ্নে ২ করে নম্বর। ১৫টি সংক্ষিপ্ত–উত্তর প্রশ্ন থাকবে, এখান থেকে যেকোনো ১০টির উত্তর করতে হবে।
∎ সৃজনশীল অংশ
সৃজনশীল অংশে প্রতিটি উদ্দীপক পাঠ্যবইয়ের প্রদত্ত সমস্যাগুলোর আলোকে দেওয়া হবে। তবে পাঠ্যবই থেকে হুবহু থাকে না। মৌলিক ধারণা ঠিক রেখে বা গুণগত পরিবর্তন না করে শুধু কাঠামোগত বা অক্ষর বা সংখ্যাভিত্তিক পরিবর্তন করে উদ্দীপক বানানো হয়। অনেক সময় একাধিক অধ্যায় থেকে সমন্বয় করে উদ্দীপক তৈরি করা হয়। পাঠ্যবইয়ের প্রদত্ত তত্ত্ব, তথ্য, সূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে প্রশ্নের উদ্দীপক বুঝতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সৃজনশীল অংশের মোট নম্বর থাকবে ৫০। প্রতিটিতে ১০ করে নম্বর। এর ৪টি বিভাগ থাকবে, প্রতিটি বিভাগ থেকে ন্যূনতম ১টি করে প্রশ্নসহ মোট ৫টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।
∎ সৃজনশীল প্রশ্নের তিনটি অংশ
১. প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের তিনটি অংশ থাকে। ‘ক’ নম্বর প্রশ্নটি উদ্দীপকের বাইরেও হতে পারে। তবে যে অধ্যায় থেকে উদ্দীপক তৈরি করা হবে, প্রশ্নটি ওই অধ্যায় থেকেই সাধারণত হয়ে থাকে।
২. ‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর প্রশ্ন দুটি উদ্দীপকের আলোকে তৈরি করা হয়। সে জন্য ‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর প্রশ্নের সমাধান উদ্দীপক ছাড়া করা যাবে না।
৩. ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর প্রশ্ন তিনটি কোনো অবস্থাতেই নির্ভরশীল হবে না। নির্ভরশীল অর্থ, একটি প্রশ্নের উত্তর অন্যটি সমাধানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
∎ পরীক্ষার সময় মনে রাখো
১. দরকারি স্থানে একক লিখবে। উত্তর আসন্ন হলে মানের শেষে (প্রায়) লিখবে।
২. অঙ্ক করা শেষে উত্তর লিখবে।
৩. পরিসংখ্যানে গ্রাফ করার সময় গ্রাফ পেপারে পেনসিল দিয়ে লেবেলিং করে গ্রাফ করবে।
৪. গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে হয়। তোমরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
৫. সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় পরীক্ষার খাতার ওপরে ও বাঁ পাশে কালো কালির কলম বা পেনসিল দিয়ে মার্জিন করবে।
৬. খাতা যতটা সম্ভব পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবে। কাটাকাটি বা ঘষামাজা বা ওভাররাইটিং না করাই ভালো।
৭. প্রতিটি প্রশ্নোত্তরের মধ্যে খানিকটা ফাঁকা রাখবে। জ্যামিতিক চিত্র অবশ্যই শার্প করা পেনসিল দ্বারা পরিষ্কার করে আঁকবে।
৮. খাতায় উত্তর করা শেষ হলে মনোযোগ দিয়ে পুরো খাতা রিভিশন দেবে।
∎ ক্যালকুলেটর ব্যবহার
পরীক্ষার সময় একজন পরীক্ষার্থী শুধু সাধারণ সায়েন্টিফিক নন–প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিচে যে ৮টি মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার তালিকা দিয়েছে— ১. Fx-82MS,
২. Fx-100MS, ৩. Fx-570MS, ৪. Fx-991MS, ৫. Fx-991Ex,
৬. Fx-991ES, ৭. Fx-991ES Plus, ৮. Fx-991CW. উল্লিখিত মডেলের ক্যালকুলেটর ছাড়া সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
রতন কান্তি মণ্ডল, শিক্ষক
উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা