সূর্যকে বলা হয় সব ধরনের শক্তির উৎস

পদার্থবিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন

প্রশ্ন: সূর্যকে সব শক্তির উৎস কেন বলা হয়—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 
পৃথিবীতে আমরা যেকোনো প্রকার শক্তিই ব্যবহার করি না কেন, তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্য থেকে এসেছে। জীবাশ্ম জ্বালানিগুলো তৈরি হয়েছিল গলিত লাভার প্রভাবে, যা সূর্যের তাপের একাংশ। এ ছাড়া উদ্ভিদ দেহে সাধারণভাবে যে শক্তি সঞ্চিত থাকে, তা মূলত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে গৃহীত শক্তি। সূর্যরশ্মির কারণেই বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। অতএব বলা যায়, সূর্য-ই হলো সব শক্তির উৎস।

প্রশ্ন: স্প্রিংকে সংকুচিত করলে এটি কী ধরনের শক্তি অর্জন করে—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 
স্প্রিংকে সংকুচিত করলে এটি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত অবস্থায় আসে এবং এ পরিবর্তনের ফলে এটি বিভব শক্তি অর্জন করে। এ ক্ষেত্রে স্প্রিংটিতে সঞ্চিত বিভব শক্তি দৃশ্যমান বা অনুমানযোগ্য না হলেও এ শক্তি পরবর্তী সময়ে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে বা এ শক্তির দ্বারা স্প্রিংটি সমপরিমাণ কাজও করতে সক্ষম।

প্রশ্ন: তরঙ্গের প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: 
উৎপত্তির কারণ অনুসারে তরঙ্গগুলো যান্ত্রিক ও তড়িৎ চৌম্বক দুই প্রকার হতে পারে। যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। তবে সঞ্চালনের ধরন অনুসারে তরঙ্গগুলোকে অনুপ্রস্থ ও অনুদৈর্ঘ্য—এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গবেগের দিকের সঙ্গে লম্বভাবে কম্পিত হয় এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে কণাগুলো তরঙ্গবেগের দিকের সমান্তরালে কম্পিত হয়।

প্রশ্ন: তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: 
তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

১. প্রতিটি কণা পর্যাবৃত্ত গতি লাভ করে।

২. মাধ্যমের ভেতর দিয়ে নির্দিষ্ট বেগে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।

৩. কণাগুলোর দশা এক কণা থেকে অপর কণাতে পরিবর্তিত হয়।

৪. মাধ্যমের কণাগুলো কখনো স্থির থাকে না।

৫. মাধ্যমের প্রতিটি বিন্দুর চাপ ও ঘনত্ব একইভাবে পরিবর্তিত হয়।

প্রশ্ন: কীভাবে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ শনাক্ত করবে—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সংকোচন ও প্রসারণ উৎপন্ন করে মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। সুতরাং কোনো তরঙ্গ যদি মাধ্যমে সংকোচন ও প্রসারণ উৎপন্ন করে সঞ্চালিত হয়, তবে এটিকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হিসেবে শনাক্ত করা যায়। এ ক্ষেত্রে একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ মিলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত হয়। এ ছাড়া অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ শনাক্ত করার আরেকটি উপায় হলো এ তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিক তরঙ্গের দিকের সমান্তরাল হয়।

  • এ এস এম আসাদুজ্জামান, প্রভাষক
    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, ঢাকা