প্রশ্ন: ‘সংকল্প’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো।
মূল ভাব: সীমাহীন বিশ্বকে জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। ‘সংকল্প’ কবিতার কিশোরও তেমনই সবকিছু জানতে চায়। সে অসীম আকাশের অজানা রহস্য আবিষ্কার করতে চায়। মানুষের অসীম অতলে ছোটার কারণ সে বুঝতে চায়। দুঃসাহসীদের ছুটে চলার কারণ জানতে চায় সে। বীরেরা কেন জীবনকে অনায়াসে বিপন্ন করে, কেন বরণ করে মৃত্যুকে, বুঝতে চায় সে। এসব ভাবনা থেকে কিশোর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, সে আর ঘরে বসে থাকবে না। পৃথিবীটাকে সে–ও ঘুরে ঘুরে দেখবে।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটির মূল ভাব লেখো।
বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জনজীবন ভারি বৈচিত্র্যময়। এই দেশকে তাই ঘুরে ঘুরে দেখা দরকার। কোথায় পাহাড়, কোথায় নদী, কোথায়ই–বা এর সমুদ্রের বেলাভূমি। দেশের নানা প্রান্ত যেমন ঘুরে দেখা দরকার, তেমনি দরকার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া, পরস্পর মেলামেশা করা, কাছাকাছি আসা, মানুষকে ভালোবাসা। দেশ মানে এর মানুষ, নদী, আকাশ, প্রান্তর, পাহাড়, সমুদ্র এসব। দেশ হলো মায়ের মতো। মা যেমন স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আগলে রাখেন, দেশও তেমনই তার আলো, বাতাস ও সম্পদ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এ দেশকে আমরা ভালোবাসব।
মূল ভাব: বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জনজীবন বৈচিত্র্যময়। এই দেশের পাহাড়, নদী ও সমুদ্র প্রভৃতি ঘুরে দেখা দরকার। আবার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুর সঙ্গে ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও প্রয়োজন। কারণ, দেশ মানে শুধু মাটি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষ ও প্রকৃতি। দেশ মায়ের মতো আগলে রাখে, তাই আমাদের উচিত দেশকে ভালোবাসা।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটির মূল ভাব লেখো।
বিশ্বের কোনো কোনো প্রাণীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের নাম বা জায়গার নাম। যেমন ক্যাঙ্গারু বললেই মনে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার কথা। সিংহ বললেই চোখে ভেসে ওঠে আফ্রিকার কথা। তেমনি বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা রাজকীয় বাঘের নাম। এই বাঘ সুন্দরবনে থাকে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আবার ভয়ংকর। এর চালচলনও রাজার মতো। সুন্দরবনের ভেজা স্যাঁতসেঁতে গোলপাতার বনে এ বাঘ ঘুরে বেড়ায়। শিকার করে জীবজন্তু, সুযোগ পেলে মানুষও খায়। একসময় সুন্দরবনে ছিল চিতাবাঘ ও ওলবাঘ। কিন্তু এখন আর এসব বাঘ দেখা যায় না। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। এ বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে হবে।
মূল ভাব: বিশ্বের অনেক প্রাণী দেশের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া এবং সিংহের সঙ্গে আফ্রিকার নাম জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িত রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা রাজকীয় বাঘ, যা সুন্দরবনে বাস করে। এই বাঘ দেখতে সুন্দর এবং রাজার মতো চলাফেরা করলেও এটি বেশ হিংস্র। একসময় সুন্দরবনে চিতাবাঘ ও ওলবাঘ ছিল, কিন্তু এখন সেগুলো আর দেখা যায় না। রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ এবং এর বিলুপ্তি রোধ করা জরুরি।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটির মূল ভাব লেখো।
আমাদের দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প হচ্ছে মৃৎশিল্প। এ দেশের কুমার সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে তৈরি করে আসছে মাটির জিনিস। যেমন কলস, হাঁড়ি, সরা, বাসনকোসন, পেয়ালা, সুরাই, মটকা, জালা, পিঠা তৈরির নানা ছাঁচ। আরও কত–কী। মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে আমরা বলি মাটির শিল্প বা মৃৎশিল্প। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো মাটি, তবে যেকোনো মাটি দিয়ে এ কাজ হয় না। দরকার পরিষ্কার এঁটেল মাটি। দোআঁশ মাটি তেমন আঠালো নয়। আর বেলেমাটি তো ঝরঝরে—তাই এগুলো দিয়ে মাটির শিল্প হয় না। অনেক যত্ন আর শ্রম দিয়ে মাটির শিল্প তৈরি করতে হয়। কুমারদের কাছে এসব খুব সহজ। কারণ, তাঁরা বংশপরম্পরায় এ কাজ করে আসছেন।
মূল ভাব: আমাদের দেশের সবচেয়ে পুরোনো শিল্প হলো মাটির শিল্প, যা কুমারেরা অনেক দিন ধরে করে আসছেন। এ শিল্পে কলস, হাঁড়ি, বাসন, পিঠা তৈরির ছাঁচ ইত্যাদি রয়েছে। মাটির শিল্প বা মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ হলো পরিষ্কার এঁটেল মাটি, যা আঠালো হয়। দোআঁশ ও বেলেমাটি দিয়ে মৃৎশিল্পের কাজ করা যায় না। কুমারেরা এই কাজে দক্ষ। কারণ, তাঁরা বহু আগে থেকেই এই কাজ করে আসছেন।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটির মূল ভাব লেখো।
রানি একদিন নদীর ঘাটে স্নান করতে যান। কোথা থেকে জানি একটা মেয়ে এসে হাজির। মেয়েটি বলল, রানির যদি দাসীর দরকার হয়, তো সে দাসী হবে। রাজার শরীর থেকে সুচ খোলার জন্য একজন লোকের দরকার ছিল। তখন রানি কাঞ্চনমালা সেই মেয়েটাকে হাতের সোনার কাঁকন দিয়ে কিনে নিলেন। তাই তার নাম হলো কাঁকনমালা। কাঁকনমালার কাছে গায়ের গয়নাগুলো রেখে রানি নদীতে ডুব দিতে গেলেন। আর চোখের পলকে কাঁকনমালা রানির সব শাড়ি-গয়না পরে নিল। রানি ডুব দিয়ে উঠে দেখেন, দাসী হয়ে গেছে রানি আর রানি কাঞ্চনমালা হয়ে গেছেন দাসী। তখন নকল রানি কাঁকনমালার ভয়ে কাঁপতে থাকেন কাঞ্চনমালা। কাঁপতে থাকে রাজপুরীর সবাই। সবাই ভাবতে থাকে, তাদের রানি তো আগে এমন ছিল না।
মূল ভাব: রানি একদিন নদীতে স্নান করতে গেলে এক মেয়ে তার দাসী হতে চায়। তখন রানি তাকে সোনার কাঁকন দিয়ে কিনলে, তার নাম হয় কাঁকনমালা। একদিন রানি স্নান করতে গেলে কাঁকনমালা তার সব গয়না ও শাড়ি পরে নেয়। ফলে রানি হয়ে যায় দাসী আর দাসী হয়ে যায় রানি। নকল রানিকে দেখে সবার সন্দেহ হয়। কারণ, সে আগের রানির মতো ছিল না।
*লেখক: শিক্ষক, মোস্তাফিজুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা