এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে দিনাজপুরে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়াম, দিনাজপুর, ২৬ জুন ২০২৬ছবি: বাসস

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কেউ কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে বা বিরূপ মন্তব্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে পুলিশ তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নেবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আটক করবে। গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং রংপুর বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে আমরা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আবশ্যিক ও কমন বিষয়গুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার রোধে কড়া বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কেউ গুজব ছড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিরূপ মন্তব্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং আটক করবে।’ পরীক্ষা বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে আমরা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আবশ্যিক ও কমন বিষয়গুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।’ এর ফলে সব ধারার শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে সমতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

মাদ্রাসাশিক্ষার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ের তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে মাদ্রাসা পরিদর্শকের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় অনেক সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। এই সংকট দূর করতে মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে অলস বসে না থেকে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিদর্শনের পরিধি ও সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।’

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা গ্রহণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন