জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বিজ্ঞান (অধ্যায়–১): ব্যাঙকে বলা হয়ে থাকে ‘উভচর প্রাণী’
বিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন
অধ্যায়–১
প্রশ্ন: সাপকে কেন সরীসৃপ বলা হয়?
উত্তর: যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর দিয়ে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত, তাদের সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর দিয়ে চলে এবং এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
প্রশ্ন: হাইড্রাকে দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বলা হয় কেন?
উত্তর: হাইড্রার দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। দেহের বাইরের দিকের স্তরটি এক্টোডার্ম ও ভেতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম নামে পরিচিত। এ কারণেই হাইড্রাকে দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বলা হয়।
প্রশ্ন: দোয়েল পাখি উড়তে পারে কেন?
উত্তর: দোয়েল পাখি পক্ষিকুল শ্রেণির প্রাণী। এদের দেহ পালকে আবৃত। এদের দেহে দুটি ডানা, দুটি পা ও একটি চঞ্চু আছে। এদের হাড় শক্ত, হালকা ও ফাঁপা। ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি থাকার কারণে পাখি সহজেই উড়তে পারে।
প্রশ্ন: নটোকর্ড ও মেরুদণ্ডের মধ্যে কী পার্থক্য আছে?
উত্তর: নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয়, দণ্ডাকার, দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। অপর দিকে মেরুদণ্ড হলো শক্ত, অনমনীয় ও সারিবদ্ধ অস্থি দ্বারা গঠিত অঙ্গ। প্রাণীদের ভ্রূণীয় অবস্থায় শুধু নটোকর্ড থাকে। অপর দিকে মেরুদণ্ড শুধু পরিণত প্রাণীদের থাকে।
প্রশ্ন: ঝিনুক মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত কেন?
উত্তর: ঝিনুকের দেহ নরম। এর নরম দেহটি সাধারণত শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। ঝিনুক পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ঝিনুকের দৈহিক বৈশিষ্ট্য মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। তাই ঝিনুক মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন: ব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয় কেন?
উত্তর: ব্যাঙ জীবনের প্রথম অবস্থায় অর্থাৎ ব্যাঙাচি থাকা অবস্থায় পানিতে বাস করে এবং মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আবার পরিণত বয়সে এরা ডাঙায় বাস করে এবং ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উভচর প্রাণীর মিল রয়েছে। তাই ব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয়।
অধ্যায়–২
প্রশ্ন: ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভিত্তি বলা হয় কেন?
উত্তর: নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্টসংখ্যক সুতার মতো ক্রোমোজোম নামক অংশগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত বংশগতির পরিবহনে ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো পুরুষাণুক্রমে বহন করে। এ জন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভিত্তি বলা হয়।
প্রশ্ন: অ্যামিবার কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?
উত্তর: অ্যামিবার কোষ বিভাজন হলো অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন। অ্যামিবার কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে সাইটোপ্লাজমসহ নিউক্লিয়াসটি ডাম্বেলের আকার ধারণ করে এবং প্রায় মাঝ বরাবর সংকুচিত হয়ে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন অপত্য নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট দুটি কোষে পরিণত হয়। অ্যামিবার এই বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে বলে অ্যামিবার কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।
মো. ফারুক হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক
বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা