এসএসসি ২০২৬। বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন (নিমগাছ)—দায়িত্বশীল মানুষ নিমগাছের মতোই উপকারী
বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
গদ৵: নিমগাছ
রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ কাজ করছে আকলিমা খাতুন। এককথায় সে তাদের সংসারটা শুধু বাঁচিয়ে রেখেছে তা নয়; বরং তাদের সমৃদ্ধির মূলে তার অবদান সীমাহীন। বয়সের ভারে আজ সে অক্ষম হয়ে বিদায় নিতে চায়। কেননা, তার পক্ষে এখন আর গতর খাটা অসম্ভব। তার এ প্রস্তাবে রহিম বলে, ‘আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। জীবনের বাকি সময়টুকু আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে কাটাবেন।’
প্রশ্ন
ক. চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ কোনটি?
খ. নিমগাছটি না কাটলেও কেউ তার যত্ন করে না কেন?
গ. উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধরো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি “নিমগাছ” গল্পের সমগ্র ভাবকে নয়; বরং বিশেষ একটা দিককে তুলে ধরে’—যুক্তিসহ প্রমাণ করো।
উত্তর
ক. বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ নিমের পাতা।
খ. কোনো যত্ন ছাড়াই নিমগাছ তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে বলে কেউ তার যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে না।
বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত নিমগাছের মাধ্যমে অনেকেই কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু সেই নিমগাছেরও যে জীবন স্পন্দন আছে, অনুভূতি আছে, সে ভাবনা ভাবে না কেউ। বস্তুত নিমগাছের কাছ থেকে বিনা পরিচর্যায় উপকার আদায়ের আশায় গাছটি না কাটলেও তার যে যত্ন নেওয়া দরকার, তা কেউ মনে করে না।
গ. দায়িত্বশীলতা ও সংসারে অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
বনফুল রচিত ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছ প্রতীকের আড়ালে পরিবারের লক্ষ্মীবউকে বোঝানো হয়েছে। তিনি নানাভাবে পরিবারের মানুষের সেবা করেন তার নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের দ্বারা, প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রয়োজন মেটায় সবাই। লক্ষ্মীবউ নিজের স্বার্থচিন্তা না করে সর্বদাই অন্যের সেবায় নিয়োজিত। সংসারে তার সীমাহীন অবদান। সংসার ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছা হলেও দায়িত্বশীলতা ও সংসারের জালে আবদ্ধ হওয়ায় যেতে পারেন না তিনি।
উদ্দীপকের আকলিমা খাতুন নিজের শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে অপরের সংসারের সেবা করেছেন। রহিমদের সংসারের সমৃদ্ধিতে আকলিমা খাতুনের অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ৪০ বছরের পরিশ্রমে তিনি সংসারটিকে আগলে রেখেছেন। তাঁর দায়িত্বশীলতা ও অবদানেই রহিমদের বাড়িতে সমৃদ্ধি এসেছে, এদিক থেকে পরিবারের মানুষের উপকারে আত্মনিবেদিত হওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের আকলিমা খাতুন আর ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায়।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত লক্ষ্মীবউয়ের অবদানের দিকটি তুলে ধরলেও অন্যান্য দিক তুলে না ধরায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে। ‘নিমগাছ’ গল্পে নিমগাছের প্রতীকী রূপের আড়ালে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে নিমগাছের উপকারী দিকের উল্লেখ করার মাধ্যমে সংসারের লক্ষ্মীবউয়ের তুলনা করা হয়েছে। যে অকাতরে সবার সেবা করে।
একদিন নতুন ধরনের একটি লোক লক্ষ্মীবউয়ের প্রশংসা করলে তার সঙ্গে লক্ষ্মীবউয়ের চলে যেতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু যেতে পারে না সংসারের সঙ্গে আবদ্ধ থাকায়।
উদ্দীপকের আকলিমা চরিত্রটির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একজন পরোপকারী মানুষের চিত্র। উপকারের প্রতিদানস্বরূপ সাহায্যকারীর কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা লাভ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংসারে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ আকলিমা খাতুনকে উপযুক্ত মর্যাদা দিয়েছে রহিম। ফলে আকলিমা খাতুনকে কোথাও যেতে হয়নি।
উদ্দীপকের আকলিমা ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের মতোই পরোপকারী। গল্পটি একটি নিমগাছকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও নিমগাছের প্রতীকের আড়ালে মানবজীবনের এক চরম সত্য প্রকাশিত হয়েছে। নিমগাছের সঙ্গে বাড়ির লক্ষ্মীবউটির তুলনা দেখিয়ে যে ভাব প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিধি অনেক বেশি বিস্তৃত। উদ্দীপকটিতে আকলিমা চরিত্রের মাধ্যমে ‘নিমগাছ’ গল্পের নিমগাছের উপকারী দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সমগ্র ভাবকে নয়; বরং বিশেষ একটি দিককে তুলে ধরে।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা