বাংলা প্রথম পত্র: পরামর্শ
প্রিয় পরীক্ষার্থী, বাংলা প্রথম পত্রে এ বছর তিন ধরনের প্রশ্ন থাকবে। তা হলো—
১. বহুনির্বাচনি প্রশ্নে থাকবে ৩০ নম্বর।
২. সৃজনশীল প্রশ্নে থাকবে ৫০ নম্বর।
৩. বর্ণনামূলক প্রশ্নে থাকবে ২০ নম্বর।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: ৩০ নম্বর
বহুনির্বাচনি অংশে প্রশ্ন থাকবে ৩০টি। নম্বর ৩০। গদ্য অংশ থেকে ১৫টি প্রশ্ন, কবিতা অংশ থেকে ১৫টি প্রশ্ন থাকবে। সব কটির উত্তর দিতে হবে। সময় ৩০ মিনিট। এর জন্য তোমাদের মূল বই ভালোভাবে পড়তে হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন: ৫০ নম্বর
গদ্য অংশ থেকে ৪টি প্রশ্ন, কবিতা অংশ থেকে ৪টি প্রশ্ন, মোট ৮টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। গদ্য অংশ থেকে কমপক্ষে ২টি প্রশ্ন, কবিতা অংশ থেকে কমপক্ষে ২টি করে উত্তর লিখতে হবে। বাকি ১টি প্রশ্নের উত্তর গদ্য বা কবিতা থেকে নিয়ে মোট ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। নম্বর থাকবে প্রতিটি প্রশ্নে ১০ করে ৫০ নম্বর।
বর্ণনামূলক প্রশ্ন: ২০ নম্বর
সহপাঠ বা উপন্যাস অংশ থেকে ৪টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন থাকবে। ২টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। নম্বর থাকবে প্রতিটি প্রশ্নে ১০ করে ২০ নম্বর। প্রতিটি প্রশ্নের ২টি অংশ থাকবে। ‘ক’ অংশের জন্য ৩ নম্বর এবং ‘খ’ অংশের জন্য ৭ নম্বর থাকবে।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ধারাবাহিকভাব লিখবে
∎ সৃজনশীল পদ্ধতিতে যেহেতু ৪টি অংশ (জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা) মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্ন, তাই প্রতিটি অংশের উত্তর লেখার সময় এভাবে লিখবে। যেমন: তুমি ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর করবে। সে ক্ষেত্রে ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (ক), ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (খ), ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (গ), ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (ঘ), এভাবে ধারাবাহিকভাবে লেখা উত্তম। যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখা শুরু করলে তার চারটি অংশের উত্তরই ধারাবাহিকভাবে শেষ করতে হবে। একটি প্রশ্নের জ্ঞানের উত্তর আরেক প্রশ্নের প্রয়োগের উত্তর এভাবে করা যাবে না। কোনো উত্তর যদি কেউ না পারে, সে ক্ষেত্রে সেটা বাদ দিয়ে তারপরের অংশের উত্তর করতে হবে।
সৃজনশীলের চারটি অংশ
∎ জ্ঞানমূলক প্রশ্নের নম্বর ১। এর উত্তর একটি শব্দে, একাধিক বা একটি বাক্যেও দেওয়া যাবে। তবে এ স্তরের উত্তর একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যে দিলে ভালো। আর এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে জ্ঞানমূলক প্রশ্নে যে তথ্যটি জানতে চাওয়া হয়েছে, সেটির বানান ভুল করলে উত্তর কাটা যাবে এবং শূন্য পাবে। যেমন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার রচয়িতা কে? এখানে ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত’-এর নামের বানানটি ভুল করলে উত্তর কাটা যাবে।
∎ অনুধাবনমূলক প্রশ্নের নম্বর ২। কারণ, এর মধ্যে একটি নম্বর জ্ঞানের জন্য, আরেকটি নম্বর অনুধাবনের। তুমি ইচ্ছা করলে জ্ঞান অংশের উত্তর আগে ও অনুধাবনমূলক উত্তর পরে অথবা অনুধাবনমূলকের উত্তর আগে ও জ্ঞানমূলকের উত্তর পরে লিখতে পারো। তবে জ্ঞানমূলকের উত্তর আগে লিখে অনুধাবনের উত্তর পরে লেখাই ভালো। অনুধাবনের প্রশ্নের উত্তর এক প্যারাতেও লেখা যায়। তবে দুই প্যারায় লেখার চেষ্টা করবে। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের শুরুতে অযথা লেখককে নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করবে না।
∎ প্রয়োগমূলক প্রশ্নের মোট নম্বর ৩। ১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে ও ১ নম্বর প্রয়োগে। যদিও এক প্যারায় সব কটি তথ্য দিয়ে উত্তর লিখলেও হবে। তবে দুই–তিন প্যারা করাই ভালো।
প্রয়োগ মানে শিক্ষার্থী তার পাঠ্যবই থেকে যা জেনেছে এবং যা বুঝেছে, তা নতুন ক্ষেত্রে অর্থাৎ উদ্দীপকে প্রয়োগ করবে। কাজেই উদ্দীপকটি যে ভাব/Theme –এর আলোকে তৈরি করা হয়েছে এবং উদ্দীপকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গল্প কবিতার যে দিকটির সাদৃশ্য/বৈসাদৃশ্য থাকে, সেটিই জ্ঞান। তারপর ওই দিক বা প্রসঙ্গটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করাই হলো অনুধাবন। দ্বিতীয় প্যারায় অনুধাবন অংশের উত্তর লিখতে পারা এবং সবশেষে ওই দিক উদ্দীপকে কীভাবে ফুটে উঠেছে, তা বর্ণনা করাই প্রয়োগ।
∎ উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের মোট নম্বর ৪।
১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে, ১ নম্বর প্রয়োগে ও ১ নম্বর উচ্চতর দক্ষতায়। উচ্চতর দক্ষতা মানেই একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার।
প্রশ্নেই সাধারণত একটা অনুসিদ্ধান্ত দেওয়া থাকবে। যদি সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়, তাহলে সেটাকেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে, উদ্দীপকে প্রয়োগ করে প্রমাণ করবে যে সিদ্ধান্তটি সঠিক।
আর যদি সিদ্ধান্তটি ভুল হয়, তাহলে কেন ভুল, সেটাও প্রমাণ ব্যাখ৵া করতে হবে। অনেক সময় সিদ্ধান্তটি আংশিক সত্য হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের যে অংশটুকুর মিল আছে, তা বর্ণনা করে যে যে ক্ষেত্রে মিল নেই, সেগুলোও বর্ণনা করতে হবে। শেষে সিদ্ধান্ত দিতে হবে যে বক্তব্যটি বা সিদ্ধান্তটি আংশিক সত্য, পুরোপুরি সত্য নয়। বিচার-বিশ্লেষণ-সংশ্লেষণ, মূল্যায়নে সিদ্ধান্ত দেওয়াই উচ্চতর দক্ষতা। তাই মনোযোগ দিয়ে উদ্দীপকটি পড়ে উত্তর লিখতে হবে।
মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা