মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দেশকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টরে। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায়–৫

∎ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

প্রশ্ন: পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর কী ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করত?

উত্তর: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করে।

প্রথমেই তারা বাংলা ভাষার ওপর আঘাত করে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি তার প্রতিবাদ জানায়। এরপর ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।

প্রশ্ন: ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু কী আহ্বান জানান?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন। তিনি বাঙালিদের মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তাঁর এ ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করে।

প্রশ্ন: মেজর জিয়াউর রহমান কখন ও কোথা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এরপর তিনি ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।

প্রশ্ন: মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।

এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।

এ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা ও বিশ্বজনমত গড়ে তোলা। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

প্রশ্ন: মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তর: মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এম এ জি ওসমানীকে। যুদ্ধের সময় এ সরকার বিদেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে। বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে তারা বিশ্বব্যাপী সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল?

উত্তর: অনেক দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানায়। প্রতিবেশী দেশ ভারত সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানায়। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় শিল্পী জর্জ হ্যারিসন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কনসার্টের আয়োজন করেন। সেই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ শরণার্থীদের সাহায্যার্থে দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন: বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল?

উত্তর: হানাদার বাহিনী তাদের সহযোগী এ দেশীয়দের সাহায্যে দেশের মেধাবী ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করে। ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তারা দেশের বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালন করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

প্রশ্ন: মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী কীভাবে যৌথ বাহিনী গঠন করেছিল?

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে যৌথ বাহিনী গঠন করে। যৌথ বাহিনীর প্রধান ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। যৌথ বাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন: পাকিস্তানি বাহিনী কীভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল?

উত্তর: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ভারতে বোমা হামলা করে। জবাবে যৌথ বাহিনী একযোগে স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয় এবং বিজয় অর্জিত হয়।

  • রাবেয়া সুলতানা, িশক্ষক
    বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা