পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক শিক্ষার (রেমিডিয়াল শিক্ষা) ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের শিখন ফল (শ্রেণি অনুযায়ী যা শেখার কথা) অর্জন বেশি হয়। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এবং জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পর এখন দেখা গেছে, সেখানে জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নের (ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট) চেয়েও বেশি শিখন ফল অর্জিত হচ্ছে।
ওই ২ উপজেলার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য বলছে, সেখানে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিখন ফল অর্জিত হচ্ছে, জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে তা ৫১ শতাংশ। একই শ্রেণিতে ওই উপজেলায় গণিতে ৬৭ শতাংশের শিখন ফল অর্জিত হচ্ছে, যা জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে ৩৯ শতাংশ।
অন্যদিকে ওই দুই উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলায় ৬৬ শতাংশের শিখন ফল অর্জিত হচ্ছে, যা জাতীয় মূল্যায়নে ৫০ শতাংশ। একই শ্রেণির গণিতে সেখানে ৭০ শতাংশের শিখন ফল অর্জিত হচ্ছে, যা জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে ৩০ শতাংশ।
শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় ওই দুই উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাময়মূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিখন ফল বেশি অর্জিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরে গবেষক ও অধ্যাপক মুরশীদ আকতার বলেন, সেখানে সরকার নির্ধারিত সময়সূচির বাইরেও অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে নিরাময়মূলক শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে তদারকিসহ আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে শিখন ফল বেশি অর্জিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এই অভিজ্ঞতার আলোকে সারা দেশের বিদ্যালয়ে নিরাময়মূলক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ সঠিকভাবে শিখন ফল অর্জন করতে পারে।
শিখনঘাটতি দূর করতে নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁরা শিক্ষা খাতের বিনিয়োগকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের এ–দেশীয় পরিচালক সুমন সেনগুপ্ত, চলপরী অ্যান্ড পার্টনারের প্রতিষ্ঠাতা জেরিন মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।