বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরুটা কীভাবে হলো? ‘খেলাধুলা আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমরা বিষয়টা নিয়ে সেভাবে ভাবি না। ঢাকায় মাঠে খেলার তেমন সুযোগ নেই। ঢাকার বাইরের ছোটবড় শহরে সুযোগ থাকলেও সবার প্রবেশাধিকার থাকে না। সব মিলিয়ে খেলাধুলার সঙ্গে দিন দিন একটা দূরত্ব হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন স্কুলে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ছেলেমেয়েদের খেলার প্রতি ভীষণ আগ্রহ আছে। কিন্তু ঠিকমতো বলটাও ছুড়তে পারে না। তখন আমার মনে হয়েছে একটা প্ল্যাটফর্ম থাকা দরকার। যেখানে খেলার সব তথ্য পাওয়া যাবে। খেলা শেখার সব রকম সুযোগ থাকবে। আর একজন শিক্ষার্থী দেশসেরা কোচদের কাছে পৌঁছাতে পারবে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ২০২০ সালে আমরা খেলবেই বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করি।’

কিন্তু খেলাধুলা তো আক্ষরিক অর্থেই ‘মাঠপর্যায়ের’ কাজ। অনলাইনে খেলা শেখা কি আদৌ কার্যকর? সাবির মনে করেন, অনলাইনে হয়তো খেলোয়াড় তৈরি করা যায় না, কিন্তু খেলা শেখানো যায়।

কিন্তু খেলাধুলা তো আক্ষরিক অর্থেই ‘মাঠপর্যায়ের’ কাজ। অনলাইনে খেলা শেখা কি আদৌ কার্যকর? সাবির মনে করেন, অনলাইনে হয়তো খেলোয়াড় তৈরি করা যায় না, কিন্তু খেলা শেখানো যায়। তিনি বলেন, ‘ধরুন, কোনো ছেলে ছোটবেলা থেকেই ভুলভাবে ব্যাট ধরে। সে কিন্তু ভুল জেনেই বড় হবে। একটা বয়সের পরে শোধরানোও কঠিন হয়ে যায়। শেখার জন্য দরকার অভিজ্ঞ কোচ। এখন ঠাকুরগাঁওয়ের একটা ছেলে কীভাবে দেশসেরা কোচের সান্নিধ্য পাবে? এইখানেই আমাদের সাফল্য। প্রথমত আমরা সবাইকে খেলতে আগ্রহী করছি। যে যেভাবে পারে, সেভাবেই খেলুক। সেটা হতে পারে মাঠে, হতে পারে বাসায় বা ছাদে।’

‘খেলবেই বাংলাদেশ’ শুধু যে অনলাইনে খেলাধুলার কৌশল শেখায়, তা নয়। ক্রিকেট, ফুটবল তো বটেই, আরও নানা খেলাধুলা কোথায় কোথায় শেখা যায়—সেসব তথ্যও পাওয়া যায় এই প্ল্যাটফর্মে। অনলাইনে একটা নির্দিষ্ট সময় ক্লাস করার পর প্রশিক্ষণার্থীরা মাস্টার ক্লাসে অংশ নেয়। সরাসরি কোচের তত্ত্বাবধানে মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় এই ক্লাস।

অনলাইনের আশীর্বাদে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছেলেমেয়েরা এখন ‘খেলবেই বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিখছেন। আহনাফ সাজিনের কথাই ধরা যাক। চট্টগ্রামের এই স্কুলছাত্র পড়ে নবম শ্রেণিতে। লোকাল একাডেমিতে কোচিং করার পাশাপাশি সে এখন খেলবেই বাংলাদেশ থেকেও শিখছে। দুটোই কেন দরকার হলো? সাজিন বলে, ‘আমি একটি ক্রিকেট একাডেমিতে শিখি। মাঠে গিয়ে শেখা অবশ্যই ভালো। তবে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আমার জীবনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। করোনার সময়ও আমি নিয়মিত শিখেছি বাসায় বসে। এখানে আমি অনলাইনে যাঁদের কাছে শেখার সুযোগ পাচ্ছি, সেটা হয়তো সামনাসামনি কখনোই সম্ভব হতো না। কিছু টেকনিক্যাল বিষয়ে দুর্বল ছিলাম। শাহরিয়ার নাফিস স্যারের লাইভ ক্লাস করে আমার সমস্যাগুলো দূর করতে পেরেছি। এ রকম বড় মাপের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে শিখলে মনোবলও বাড়ে।’

শুধু যে খেলোয়াড়েরা উপকৃত হচ্ছে, তা নয়। শিখছেন কোচরাও। খাগড়াছড়ির তরুণ কোচ ইমরান হাসানের সঙ্গে কথা হলো। বাফুফের লাইসেন্সধারী এই কোচ ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল স্কাউটিং অর্গানাইজেশন থেকে লেভেল ৫ শেষ করেছেন ৷ তিনিও খেলবেই বাংলাদেশের সাহায্য নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ছোটবেলায় গোলকিপিং করতাম। একটু বড় হওয়ার পর বুঝলাম, খেলোয়াড় হওয়ার থেকে কোচিংয়ের দিকে আমার বেশি ঝোঁক। পরে কোচিংয়ের লাইসেন্স পেতে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। পরীক্ষায় ভালো করার ক্ষেত্রে বিশেষ কাজে দিয়েছে নুরুজ্জামান নয়ন স্যারের গোলকিপিং ক্লাসগুলো। খাগড়াছড়িতে বসেও আমি তাঁর ক্লাস করতে পেরেছি, এটা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছাড়া সম্ভব হতো না।’

নতুন যেকোনো উদ্যোগ যেমন হোঁচট খেয়ে খেয়ে এগোয়, খেলবেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই। অনলাইনে খেলাধুলা শেখার ধারণা যেহেতু খুব প্রচলিত নয়, তাই এখনো নানা সমস্যার ইয়র্কার, বাউন্সার সামলে ক্রিজে সেট হতে চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তা কাজী সাবির। বলছিলেন, ‘শুরুতেই করোনা মহামারির সময় একটা ধাক্কা খেয়েছি। এ ছাড়া অনলাইনে শিখেও যে মাঠে বাস্তবায়ন করা যায়, এটা বোঝাতে একটু বেগ পেতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি ভালো। অনেকেই আমাদের পদ্ধতি উপলব্ধি করতে পারছেন। আমাদের ছোট ছোট শিক্ষার্থী আছে। করপোরেট জগতেও আমরা পৌঁছে দিয়েছি খেলাধুলার আনন্দ। অনেকে দেখা যায়, কেবল দেশের বাইরের কাজকেই মূল্যায়ন করেন। বিদেশের কথাই যদি বলি, মাইকেল ফেলপস অনলাইনে সাঁতার শেখাচ্ছেন, মারিয়া শারাপোভা দিচ্ছেন টেনিসের তালিম। তাহলে আমরা পারব না কেন? আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করা। সেটা যে খেলাই হোক। সবাইকে সাকিব আল হাসান বা জামাল ভূঁইয়া হতে হবে, তা নয়। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই বড় স্বপ্ন থাকবে। আর খেলতে হবে মনের আনন্দে।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন