বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৫.
গত কিছুদিন পত্রিকায় যেভাবে উপাচার্যদের নানা রকম অনিয়ম এবং দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রদর্শনের সময় এসেছে। শিক্ষায়, গবেষণায়, প্রশাসন চালানোয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দেখতে চায় সবাই।

ক. উপাচার্যকে হতে হবে স্বপ্নদ্রষ্টা
শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে উপাচার্যকে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও স্বপ্ন দেখাতে হবে এবং একই সঙ্গে এই স্বপ্নপূরণে সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে।

খ. উপাচার্য হবেন আদর্শ শিক্ষাবিদ
বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম কাজই হলো শিক্ষা কার্যক্রম। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই পাঠদানের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই উপাচার্যকে হতে হবে রোল মডেল শিক্ষাবিদ, যাঁকে সবাই আদর্শ মেনে শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল রাখবেন।

গ. উপাচার্যকে দক্ষ গবেষক হতে হবে
শ্রেণিকক্ষে ও ল্যাবরেটরিতে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গবেষণা, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে। কেবল একজন ভালো ও দক্ষ গবেষকই পারেন গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে, দেশে-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম কুড়িয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নীত করতে।

ঘ. চৌকস এবং সংবেদনশীল প্রশাসকের ভূমিকা পালন করতে হবে উপাচার্যকে
উপাচার্যকে একজন দক্ষ এবং কৌশলী প্রশাসক হতে হবে। অভিভাবক হিসেবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী—সবাইকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো ভাবতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি কোমলতায় সবাইকে আপন করে নিতে হবে। ব্যক্তিগত আক্রোশে প্রতিশোধ, শাস্তি বা বহিষ্কারের মতো গর্হিত কাজ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে আগলে রাখার পাশাপাশি সবাইকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতে হবে। উপাচার্যকে ভয় নয় সবাই শ্রদ্ধা করবে।

ঙ. জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত
বর্তমান যুগে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সরকারি কোষাগার থেকে টাকা এলেও গবেষণার জন্য বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দেশি-বিদেশি, সরকারি-বেসরকারি ফান্ড সংগ্রহ করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে চুক্তি করে যৌথভাবে গবেষণা সম্পন্ন করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে উপাচার্যকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি উপাচার্য হলে এই জাতীয় ফান্ড সংগ্রহ এবং চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

চ. উপাচার্য হবেন সৎ এবং কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ
উপাচার্যকে নিজের কাজের প্রতি সৎ ও নিবেদিত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কাজ দুটোকেই ভালোবাসতে হবে এবং পরিকল্পনামতো কাজ করে যেতে হবে। কাজে স্বচ্ছতা থাকতে হবে এবং অবশ্যই অবশ্যই উপাচার্যকে আর্থিক ও নৈতিকভাবে সৎ হতে হবে।

ছ. নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উপাচার্য
অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাকালে অস্থায়ী ও দায়সারা গোছের সমাধান দিতে চেষ্টা করেন। এ-জাতীয় ক্ষেত্রে উপাচার্যরা মেয়াদ শেষে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার কারণে উপাচার্যের দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহির সুযোগ থাকে না। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই কেউ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে, কারণ উপাচার্যের মেয়াদ শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যেতে হবে বিধায় তিনি জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন।

*লেখক: ড. আবু শামীম মোহাম্মদ আরিফ, অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন