default-image

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একই স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ২২ ছাত্রী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এতে স্বনামধন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। এঁরা ছাড়া আরও এক শিক্ষার্থী স্কুলে ওই ২২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে পড়েছেন। কলেজ আলাদা।

স্কুল ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের স্বনামধন্য এসভি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রীর মধ্যে ২৩ জন ছাত্রী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান। এঁদের মধ্যে ২২ জনই ২০২০ সালে একই জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাস করেছেন। এবার তাঁরা দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

২০১৮ সালে এসভি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২১০ জন ছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। অন্যদের পাশাপাশি এই ২৩ জন ছাত্রীও কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। এঁদের মধ্যে ২২ জন শিক্ষার্থী গুরুদয়াল সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। আরেকজন ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি হন। একই স্কুল-কলেজে একসঙ্গে পড়া বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও বান্ধবী মেডিকেল ভর্তির সুযোগ পেয়ে তাঁরা মহা খুশি। ৪ এপ্রিল মেডিকেলে ভর্তির ফল প্রকাশ হয়। সেখানে দেখা গেছে, ২৩ জন ছাত্রী এসভি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের। আর এ খবরে একসঙ্গে হয়ে আনন্দ–উচ্ছ্বাস, হইহুল্লোড় ও গানে মেতে ওঠেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা একে অপরের সঙ্গে স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ কবীর তাঁদের এসভি স্কুলের নামসংবলিত মাস্ক উপহার দেন এবং তাঁরা যেন পড়াশোনা করে মানবিক চিকিৎসক হতে পারেন, সে আশাই করেন তিনি।

default-image

২৩ শিক্ষার্থী হলেন নোসাইবা হোসেন সাবা, সুলতানা আক্তার সাদিয়া, আরফাতুন নাহার সুমাইয়া, নওশীন তাবাসসুম ইসলাম, নিশাত নাবিলা, সাদিয়া হক, সিনথিয়া বিনতে মান্নান, যমজ অমৃতি অরাত্রিকা ও নিভৃতি দ্যোতনা, সায়মা আক্তার, শেফা উম্মে সালমা সুস্মিতা, তাজরিয়ান রাফিন মাহি, ফারহানা আক্তার বাঁধন, আসমা সিদ্দিকা অংকন, নূসরাত আরা নিদ্রা, উম্মে হাবিবা অন্তু, অনন্যা সাহা, আনিকা তাসনিম অনি, রেজওয়ানা আফরিন ইকরা, নওশীন তাবাসসুম মৌমিতা, তাসফিয়া নওশীন, আনজুমান আরা শাম্মী, নাজিফা তাসনিম দোলা।

ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে নোসাইবা হোসেন সাবা, সুলতানা আক্তার সাদিয়া, আরফাতুন নাহার সুমাইয়া ও তাসফিয়া নওশীন; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নিশাত নাবিলা ও সাদিয়া হক এবং কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নওশীন তাবাসসুম ইসলাম। সিনথিয়া বিনতে মান্নান, অমৃতি অরাত্রিকা ও রেজওয়ানা আফরিন ইকরা সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নিভৃতি দ্যোতনা। খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন সায়মা আক্তার ও নওশীন তাবাসসুম মৌনতা। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন শেফা উম্মে সালমা সুস্মিতা, ফারহানা আক্তার বাঁধন ও আনিকা তাসনিম অনি। রংপুর মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন তাজরিয়ান রাফিন মাহি, অনন্যা সাহা ও আনজুমান আরা শাম্মী। আসমা সিদ্দিকা অংকন ও নূসরাত আরা নিদ্রা বরিশালের শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক মেডিকেল কলেজ, উম্মে হাবিবা অন্তু নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে এবং নাজিফা তাসনিম দোলা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নিজ স্কুলের ছাত্রীদের সাফল্যে কিশোরগঞ্জ এসভি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ কবীর আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের মূল বেসিক তৈরি হয় স্কুলে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে। স্কুলের শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতায় আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার কারণে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ ছাড়াও প্রতিবছর ইঞ্জিনিয়ারিং ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা পড়াশোনা করে আসছেন।’ তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে এ স্কুল থেকে এসএসসিপড়ুয়া ১৫ জন এবং ২০১৬ সালে ২৫ জন এসএসসি পাস করা ছাত্রী মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রধান শিক্ষক শাহনাজ কবীর ২০১৯ সালে দেশের সেরা প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এবার তিনি আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননাও পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ। যে কলেজে পড়াশোনা করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ দেশের তিনজন রাষ্ট্রপতি। সেই কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা অসংখ্য শিক্ষার্থী এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে ২২ জন ছাত্রী জেলা শহরের এসভি সরকারি স্কুলে এসএসসিতে পড়াশোনা করেছিলেন। মূলত মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের এইচএসসির পড়াশোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়টাতে ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী থাকলে পরবর্তী সময়ে পছন্দ অনুযায়ী তাঁরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে সক্ষম হন। যে কারণে গুরুদয়াল কলেজের শিক্ষকেরা আন্তরিকভাবে চান তাঁদের শিক্ষার্থীরা দেশ–বিদেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে সুনাম অর্জন করুক। সে জন্য তাঁরা শিক্ষার্থীদের ভালো শিক্ষাদানের চেষ্টা করেন। যে কারণে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করার পর অসংখ্য শিক্ষার্থী মেডিকেলে, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন