default-image

এখনকার সময়ে প্রতিনিয়তই আত্মোন্নয়নের কত নতুন নতুন বই লেখা হচ্ছে। কিন্তু কয়েক যুগ আগের একটি বই এখনো যেন সমসাময়িক। তিন কোটির বেশি বিক্রি হওয়া বইটির নাম হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল। লেখক ডেল কার্নেগি। আপনি যদি নেটওয়ার্কিং, যোগাযোগ বা নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে চান, এ বই আপনাকে পড়তেই হবে। জানিয়ে রাখি, বিখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটও কিন্তু ডেল কার্নেগির লেখার বড় ভক্ত।

প্রশ্ন হলো, কী আছে এই বইতে? মূলত চারটি ভাগে মানুষের মনকে জয় করার কৌশল দেখানো হয়েছে। প্রথম ভাগে কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার একদম মৌলিক কৌশলের কথা, দ্বিতীয় ভাগে কীভাবে মানুষের মন জয় করা যায়, তৃতীয় ভাগে আপনার চিন্তাকে কীভাবে মানুষের সামনে আকর্ষণীয় করা যায় এবং চতুর্থ ভাগে মানুষকে আপন করে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়—সেসব দেখানো হয়েছে।

আমাকে বলা হয়েছে, ৫০০ শব্দের মধ্যে বইটি সম্পর্কে লিখতে হবে। সে ক্ষেত্রে ২৫০ পৃষ্ঠার বই সম্পর্কে বলতে গেলে ২ শব্দে প্রতি ১ পৃষ্ঠার বর্ণনা দিতে হবে, যেটা অসম্ভব! অতএব অসম্ভবের দিকে না গিয়ে বইটা পড়ে আমি যা পেয়েছি, সেটাই বলি।

আপনার সবচেয়ে পছন্দের শব্দ কী জানেন? ছোটবেলায় রচনা লিখতে গিয়ে আমরা অনেকেই হয়তো লিখেছি, ‘মা শব্দটি পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর।’ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের শব্দ কিন্তু আমাদের নিজেদের নাম। কোথাও নিজের নাম শুনলেই চট করে মনোযোগ সেদিকে চলে যায়। তাই যতটা পারবেন, মানুষের নাম ব্যবহার করবেন। এসএমএসের শুরুতে ব্যক্তির নাম লিখুন। বিদায় বলার সময় নামটা যোগ করে দিন ‘খোদা হাফেজ সাকিব ভাই’।

ফেসবুকে যেভাবে ট্যাগ করে মানুষকে বার্তা পাঠাতে হয়, বাস্তব জগতে সেভাবেই মানুষের নাম ব্যবহার করুন। দেখবেন কত পরিবর্তন আসে। আর আজকেই একটা জিনিস করে ফেলতে পারেন। আপনার এলাকার পরিচিত রিকশাচালক, নিরাপত্তারক্ষী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আছেন, তাঁদের নাম জেনে সম্বোধন করুন। দেখবেন, দ্রুতই তাঁরা আপনাকে আপন করে নেবেন।

অনেকেই বোঝার জন্য শোনে না, বরং নিজের কথাটা বলার জন্য অপেক্ষা করে। অন্যের কথা শোনার চেয়ে নিজের কথা বলার তাগিদ বেশি বলেই হয় যত ভুল বোঝাবুঝি। কার্নেগি সাহেবের সহজ কথা—ভাই, তুমি অন্যকে কথা বলতে দাও।

‘অন্যের সম্পর্কে যদি কিছু না জানি, তাহলে কী করব?’ আরও সহজ! প্রশ্ন করো! মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো সে নিজের সম্পর্কে মানুষকে জানাতে চায়, সে কথা বলতে চায়। এ কারণেই দেখবেন অনেকে মাইক্রোফোন পেলে ছাড়তে চান না। তাই নিজের বলার কিছু না থাকলে অন্যকে বলতে দিন। তাঁদের বলার কিছু না থাকলে তাঁদের সম্পর্কে প্রশ্ন করুন।

ডেল কার্নেগির মতে, আপনি মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলে দুই মাসে যতটা আপন হয়ে যাবেন, নিজের দিক থেকে বকবক করলে ততটা আপন হতে দুই বছর সময় লেগে যেত!

আমাদের সমাজে ‘ধন্যবাদ’ দেওয়ার সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। ‘ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না’ যতই বলি না কেন, প্রশংসা পেলে ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই-ই উপভোগ করি। তাই মানুষকে ধন্যবাদ দেওয়া শুরু করুন এবং সম্ভব হলে কী কারণে তিনি ধন্যবাদ পাচ্ছেন, সেটা ব্যাখ্যা করুন। ‘ধন্যবাদ করিম মামা! আজকে চায়ে দুধ একটু বেশি দিয়েছ, চা–টা ভালো হয়েছে!’, ‘ধন্যবাদ রহিম চাচা! আপনি যে কীভাবে রাত জেগে ডিউটি করেন! আমার তো রাতে একটু ঘুম কম হলেই পড়াশোনার বারোটা বেজে যায়!’

এমন আরও অনেক পরামর্শ আর কৌশলের কথা বলা আছে হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল বইতে। এই তিন কৌশল মনে রাখাও যদি কঠিন হয়, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কৌশলের কথা বলে শেষ করি। এটা অন্তত মনে রাখতে পারেন: আপনি যদি মন থেকে মানুষের বিষয়ে কৌতূহলী হন, তাহলেই আপনি সহজে মানুষের প্রিয় হয়ে উঠবেন।

লেখক: প্রধান কনটেন্ট ক্রিয়েটর, টেন মিনিট স্কুল

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0