default-image

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর প্রথম দিকেই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা ড. এ বি এম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী ১৯৯৫ সালে এ ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার। তার মধ্যে রয়েছে ৪ শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী। এ ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে ৩২০ জন পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।

পাঠ্যক্রম

১৯৯৫ সালের এপ্রিলে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে রাজধানীর ঝিগাতলার একটি তিনতলা বাড়িতে এর যাত্রা শুর হলেও বর্তমানে অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সে সময় আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগ চালু করা হয়। এরপর এখানে চালু করা হয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), ফার্মেসি, হিউম্যান রাইটস ল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।

গুণগত, মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শ ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ তৈরিতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রশংসার দাবিদার। বিভিন্ন বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনেক ওপরে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যিনি নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, তিনি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ, অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের উপদেষ্টা হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া রয়েছে অত্যন্ত মেধাবী, অভিজ্ঞ ও পরিশ্রমী ২৫ জন পূর্ণ শিক্ষক ও কিছুসংখ্যক রয়েছেন স্বনামধন্য খণ্ডকালীন অধ্যাপক।

বিজ্ঞানপ্রযুক্তির যুগে এর গুরুত্ব অনুধাবন করেই মূলত ঢাকা ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করেছেন। ইউনিভার্সিটির গ্রিনরোড ও বনানীতে ১৫ লাখ বর্গফুটের কয়েকটি সুরম্য অট্টালিকায় ক্লাস পরিচালিত হলেও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্ষেত্রে ক্লাসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কোর্সটি বাড্ডার সাতারকুলে এক মনোরম পরিবেশে এবং একটি নান্দনিক ভবনে শুরু করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অন্য কোর্সগুলো সুনামের সঙ্গে পাঠদান দিলেও ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশেষ গুরুত্বসহকারে পাঠ দান দেওয়া হয়। এর ফলে ফার্মাসি বিভাগের সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যানের হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরিদা বেগম। তাঁর দিকনিদের্শনায় ফার্মাসি বিভাগ আজ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সবচেয়ে বড় ও আদর্শ বিভাগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বসহকারে পাঠদান দেওয়া হয়। কেননা এটি একটি ডায়নমিক সাবজেক্ট। বাংলাদেশে চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্লোবাল সিস্টেম থেকে শুরু করে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন পর্যন্ত তড়িৎ প্রকৌশলীরা প্রযুক্তির একটি বিশাল স্থান দখল করে আছেন। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে পালন করছেন সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বাসেত।

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রথম শুরু হয় ইংরেজি সাহিত্যে ছাত্রছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে। তাই এখানে গুরুত্ব দিয়েই ইংরেজি বিভাগ পরিচালিত হয়। শুরুতেই এখানে প্রথিতযশা অধ্যাপকেরা পাঠদান করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আহসানুল হক, কবি ও অধ্যাপক খন্দকার আশরাফ হোসেন। এরপর যোগ দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আমানুল্লাহ আহমেদ, অধ্যাপক রেজাউর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু জাফর, শাহাজাদা বসুনীয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফজলুর রহমান প্রমুখ।

বেসরকারি ইউনিভার্সিটির মধ্যে আইন অনুষদের প্রথম শিক্ষাদান শুরু হয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বর্তমানে আইন অনুষদেও ২৫ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন। জ্ঞান ও মেধা বৃদ্ধি এবং আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা আইনের অধ্যাপক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিখ্যাত আইনজীবীর সমন্বয়ে আইন অনুষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় পাঠদান সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে এখানে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এডুকেশন সেল

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব একটি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এডুকেশন সেল (আইকিউএসি) রয়েছে। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে ‘হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ)’ ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ৭টি সেলফ অ্যাসেসমেন্ট কমিটি ১ জুলাই ২০১৫ থেকে যথারীতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

গবেষণা ও প্রকাশনা সেল

ইউনিভার্সিটিতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গবেষণা ও প্রকাশনা সেল রয়েছে। সেলের পরিচালক হিসেবে রয়েছে অধ্যাপক ড. মো. সানা উল্লাহ। প্রতিবছর সেল ডিআইইউ জার্নাল প্রকাশ করে থাকে। প্রত্যেক শিক্ষককে বছরে কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হয়।

লাইব্রেরি সুবিধা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে তিনটি সুসজ্জিত সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। এখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যাপ্ত বই ও জার্নাল। লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা নিরিবিলি পরিবেশে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারে। পড়াশোনার প্রয়োজনে লাইব্রেরি থেকে বই বাসায় বই নিয়ে যেতে পারে। তার জন্য রয়েছে ই-লাইব্রেরি কার্ড।

ইন্টারনেট ও ল্যাবরেটরি সুবিধা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সম্পূর্ণ ওয়াই-ফাইয়ের আওতাভুক্ত। পুরো ক্যাম্পাস ওয়াই–ফাইযুক্ত হওয়ায় এবং ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণাকাজে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকে। এই ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক মানসম্পন্ন প্রায় ৩১টি ল্যাবরেটরি, যা বুয়েট-ডুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান অধ্যাপকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হয়।

ডিবেটিং ক্লাব

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কচর্চার জন্য নিয়মিত বিতর্ক কর্মশালা, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি এই ইউনিভার্সিটির বিতার্কিক দল ২০১৭ সালে এটিএন বাংলা পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়।এ ছাড়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে কালচারাল ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও সোশ্যাল বিজনেস একাডেমিক সেল।

আরও সুযোগ-সুবিধা

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কমকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে আসা–যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা। রয়েছে নিজস্ব ক্যানটিন। শিক্ষার্থীরা সার্বক্ষণিক এসব ক্যানটিনের সুযোগ–সুবিধা পেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের সন্নিকটে রয়েছে ৭টি হোস্টেল, তার মধ্যে ছেলেদের জন্য রয়েছে ৫টি এবং মেয়েদের জন্য রয়েছে ২টি হোস্টেল। এ ছাড়া নিকুঞ্জ জোয়ার সাহারায় ছেলেদের জন্য ১টি হোস্টেল রয়েছে। দরিদ্র, মেধাবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। চার শতাধিক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা বেতনে অধ্যয়নরত। শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবাদানের জন্য রয়েছেন একজন উচ্চ ডিগ্রিধারী পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ ডাক্তার।

স্থায়ী ক্যাম্পাস

ঢাকার বাড্ডার সাতারকুলে স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। সেখানে সবুজে ঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রয়েছে ২টি বিশাল সুরম্য ভবন রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে নির্মাণাধীন ১০ তলা টাওয়ার।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির, স্থায়ী ক্যাম্পাস, সাতারকুল, বাড্ডা, ঢাকা। মোবাইল: ০১৯৩৯৮৫১০৬০। ৬৬, গ্রিনরোড, ঢাকা-১২০৫। মোবাইল: ০১৬১১৩৪৮৩৪৪-৮। বাড়ি-০৪, সড়ক-০১, ব্লক-এফ, বনানী, ঢাকা-১২১৩। মোবাইল: ০১৯৩৯৮৫১০৬১-৪ । ই-মেইল: [email protected] । ওয়েবসাইট: www.diu.ac

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন