সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে এডুকেশন ওয়াচের চেয়ারপারসন অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ বলেন, এই সময়ে শিক্ষা অনেক পিছিয়ে গেছে। এ থেকে এগিয়ে যেতে না পারলে, শিক্ষা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে, শিক্ষার্থীদের আবার ফিরিয়ে আনতে না পারলে টেকসই উন্নয়নে দক্ষ জনবল পাওয়া যাবে না। এ জন্য শিক্ষায় অনেক বেশি বরাদ্দ লাগবে। পরিকল্পনায় যা যা করার, তা–ই করতে হবে। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

সঞ্চালকের বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, করোনা সংকটের কারণে মহাবিপর্যয়ের দিকে ধাবিত বিশ্ব। এ জন্য অর্থনীতিকে চালু রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ও কৃষিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কিন্তু তার মধ্যে যেন শিক্ষা হারিয়ে না যায়। শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে দেখতে হবে।

আলোচনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, বাজেটে অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে শিক্ষা খাতও আছে। তাদের (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) জানানো হয়েছে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে। তারা এখন শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ করছে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের ভাইস চেয়ার ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, আবার শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি দরকার। তবে সারা দেশে একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে ধাপে ধাপে খুলতে হবে। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য দুই-তিন বছরের পরিকল্পনা করতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক। তিনি বলেন, করোনার কারণে চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়েছে। টিভি, রেডিও ও অনলাইনে ক্লাস চালু হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এই সুযোগ কম। বাল্যবিবাহ বাড়ছে। দুই দশকে যে অগ্রগতি হয়েছিল, সেটি স্থির হয়ে গেছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা দরকার।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাংসদ আরমা দত্ত, শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক আহমেদ, একশনএইডের এ দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবীর, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক এহসানুর রহমান প্রমুখ।