ছয় মাস পর নিয়মিত মহাপরিচালক পাচ্ছে মাউশি, আলোচনায় খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ
প্রায় ছয় মাস পর নিয়মিত মহাপরিচালক পেতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে সম্ভাব্য আলোচনায় আছেন অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বর্তমানে সংস্থাটির পরিচালকের (মাধ্যমিক) দায়িত্বে আছেন। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে মাউশির মহাপরিচালক করার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ফাইল (সার সংক্ষেপ) পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে আসলেই আদেশ জারি হবে। সেটা আজকেও হতে পারে।
মাউশিতে ছয় মাস ধরে নিয়মিত মহাপরিচালক (ডিজি) নেই। এর মধ্যে এত দিন যিনি মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন , তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আসছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সংকট তৈরি হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস হলেও শীর্ষ ওই পদে নিয়োগ না হওয়ায় বিলম্বের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কয়েক দিন আগে প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন ছিল, সেটি শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন সেই নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে ।
মাউশি দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থা। একই সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও এই অধিদপ্তরের আওতায় হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের পদটি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পদ। সারা দেশের নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে এটি শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক কাঠামো। সেই সংস্থাই ছয় মাস ধরে পূর্ণকালীন মহাপরিচালকবিহীন হিসেবে চলেছে।
মাউশির মহাপরিচালক পদটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে সরিয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। এর আগে একই বছরে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এহতেসাম উল হককে মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টানা এই পরিবর্তন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে পদটি কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
এত দিন সংস্থাটির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মহাপরিচালকের কাজ চালিয়ে আসছিলেন; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও এখনো তিনি অবমুক্ত হননি। আজকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ এখন নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।