স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি ও অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মন্ত্রণালয়

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের সপ্তাহে ৫ দিন দেওয়া হচ্ছে বনরুটি, ডিম ও কলা। ডিম-রুটি-কলা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। রিয়াজউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম খাবাসপুর, ফরিদপুর, ৩০ মার্চছবি: আলীমুজ্জামান

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা খাবারের মান নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এবং খাবারের মান যাচাইয়ে কোনো প্রকার গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশটি দেশের প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে খাবার গ্রহণের পূর্বেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না।

খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। প্যাকেট অক্ষত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনায় বলা হয়, ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল হতে পারবে না। কলা দাগ ও পোকামুক্ত হতে হবে। বেশি পাকা বা পচা কলা কোনোভাবেই বিতরণ করা যাবে না। ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত থাকার পাশাপাশি উৎপাদন-মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন যাচাই করতে হবে।

আরও পড়ুন

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পচা বনরুটি, পচা ডিম, আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিশুদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার দিলে প্রধান শিক্ষকেরা তা গ্রহণ করবেন না এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। এ কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

আরও পড়ুন