আলোচনা সভায় শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকের কাছ থেকে শুধু প্রত্যাশা করব, শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণ করব না, তাহলে হয় না। শিক্ষকদের যে প্রত্যাশা আছে, তা পূরণেও আমরা আন্তরিক। শিক্ষকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাঁর সম্মান—সব ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো কিছু চাইলে ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন করছি, তা যেমন জরুরি, তার চেয়ে আরও বেশি জরুরি শিক্ষার একটি পরিবেশ তৈরি করা।’

দীপু মনি বলেন, তাঁদের আন্তরিকতা আছে। হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টাও করছেন।

শিক্ষকের কাছ থেকে শুধু প্রত্যাশা করব, শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণ করব না, তাহলে হয় না। শিক্ষকদের যে প্রত্যাশা আছে, তা পূরণেও আমরা আন্তরিক। শিক্ষকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাঁর সম্মান—সব ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো কিছু চাইলে ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনৈতিক কাজে কিছু শিক্ষকের জড়িয়ে পড়ার কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যে আপদগুলো ছিল, সেগুলো দূর করার চেষ্টা করছেন। তার মধ্যে একটি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস, সেটিও বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তারপরও দু-একটা জায়গা, যেখানে হয়তো চেষ্টা হয়, ব্যত্যয় ঘটে—সেখানে কোনো একজন ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকেন। যখন দেখা যায়, তাঁরা কেউ শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা কিন্তু সমগ্র শিক্ষকসমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না। কিন্তু সমগ্র শিক্ষকসমাজের মধ্যে একজন, দুজন বা তিনজনও যদি এমন অনৈতিক কাজ করেন, তার দায় কিন্তু সবাইকে নিতে হয়। সে জন্য সবাইকেই খুব সচেতন থাকতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু শিক্ষক শেখাবেন, কাজেই তাঁর সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও দৃঢ়চেতা হওয়া ভীষণ জরুরি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিংয়ে প্রশিক্ষিত দুজন করে শিক্ষক থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।