সুইডেনে উচ্চশিক্ষা, সেই ছাত্রী সনদ যাচাই ফি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক সাবেক শিক্ষার্থীর সনদপত্র যাচাই–সংক্রান্ত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝি নিরসনে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশিত বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সনদপত্র যাচাইয়ের ফি প্রদানসংক্রান্ত একটি সংবাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এ সংবাদে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বলে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা—
কোনো শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি যোগাযোগ করে না। মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইএস, ফার্স্ট অ্যাডভান্টেজ, কোয়ালিফিকেশন চেক, ডেটা ফ্লো, এএমএস ইন্ডিয়া, ইউএইচআরসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের সনদ যাচাই করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ই–মেইল পাঠায়। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে তাদের সনদ যাচাইয়ে সহযোগিতা করার জন্য পছন্দের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ৫০ ডলার ফি প্রদানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সনদ যাচাইয়ের জন্য ই–মেইল প্রেরণ করে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক (২২/১১/২০১৫) সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ ডলার ফি প্রদানের বিধান রয়েছে। এই ফি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান করে না। এটি প্রদান করে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান।
ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে সনদপত্র যাচাই করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সনদপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট ই–মেইলের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়।
ফেসবুকে আলোচিত শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠান ‘ইউএইচআর’ ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ই–মেইল পাঠায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ‘ইউএইচআর’ বাবদ নির্ধারিত ফি প্রদান করেনি।
কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ফি প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে সোনালী ব্যাংক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় এই ফি জমা দেন। পরবর্তীকালে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু আলোচিত শিক্ষার্থী ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে এই ফি প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি না পাওয়ায় ওই দিনই ফিরতি ই–মেইলে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সনদ যাচাইয়ের ফি চাওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো সময়ক্ষেপণ বা দায়িত্ব অবহেলা করেনি। উল্লেখ্য, সনদ যাচাই বাবদ ফি প্রদানের যাবতীয় প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।
উল্লেখ্য, আরেকজন শিক্ষার্থী ইতালির বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেরিত ই–মেইলের জবাব দেওয়া হয়নি বলে ফেসবুকে যে দাবি করেছেন, তা–ও ভিত্তিহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ–সংক্রান্ত কোনো ই–মেইল আসেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে সনদ যাচাইয়ের ফি আদায় বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
জিনিয়া তাসনিম নামের এক শিক্ষার্থীর সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। সুইডেন থেকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সেবা দেয় অর্থের বিনিময়ে। সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবার এ জন্য অর্থ খরচ করবে না। ফলে জিনিয়া তাসনিমের আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হয়। জিনিয়া তাসনিমের স্বপ্নভঙ্গের এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলেছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনাই হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নই ভেঙে দিচ্ছে না, বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।
এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।