ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত, ৪ হাজার ২০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪ হাজার ২০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ১৩তম সমাবর্তন। বুধবার ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী পাঁচ স্নাতককে দেওয়া হয় চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল, চার স্নাতককে দেওয়া হয় চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল এবং তিন স্নাতককে দেওয়া হয় ভাইস চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল। মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক ও ৬২৯ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির।
অনুষ্ঠানে প্রেরিত এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,‘এই সমাবর্তন কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং তোমাদের জীবনের এক নতুন এবং অর্থবহ অধ্যায়ের সূচনা। বিশ্ব আজ এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আমরা একটি থ্রি জিরো ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা করছি অর্থাৎ শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ এবং শূন্য বেকারত্ব। ...তোমাদের অর্জিত জ্ঞান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন ও পরিবেশবান্ধব নতুন পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
সমাবর্তন উপলক্ষে আগে থেকেই বর্ণিল সাজে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়। সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট আসনে বসে অভিভাবকেরাও সমাবর্তন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান শেষে সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বন্ধু ও মা–বাবার সঙ্গে ছবি তোলা আর খোশগল্পে মেতে উঠেন। অনেকে আবার আকাশের দিকে সমাবর্তনের ক্যাপ ছুড়ে উল্লাস করেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আজ এমন এক পৃথিবীতে পা রাখছে, যা রোমাঞ্চকর, দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উদ্ভাবনী সম্ভাবনায় ভরপুর। সবাইকে মনে রাখতে হবে ডিগ্রির চেয়ে বড় হলো বিবেক। একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও দৃঢ় হওয়া উচিত। সেই নৈতিক শক্তি নিয়ে তোমরা দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করবে।’
সমাবর্তন বক্তা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। আমরা যেন মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে না যাই, সে জন্য আমাদের উদ্ভাবনী শক্তি বাড়াতে হবে, জ্ঞানভিত্তিক কাজে এগোতে হবে এবং নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। তোমাদের এই তরুণ প্রজন্মকেই এখন এমনভাবে গড়ে উঠতে হবে, যেন তোমরা শুধু কারও নির্দেশ পালনই নয়, বরং নিজেরাই নতুন সমস্যার সমাধান বের করতে পারো।’
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, আজকের দিনটি শুধু একটি সনদ গ্রহণের দিন নয়। এটি জীবনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার দিন। আজ থেকে গ্র্যাজুয়েটরা আর শুধু শিক্ষার্থী নয়, তারা সমাজের অংশীদার এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা।
উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এই সমাবর্তন পড়ালেখার একটি অধ্যায়ের শেষ, কিন্তু বাস্তব জীবনের শুরু। তাঁদেরকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে নেতৃত্ব দিতে হবে।
স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পেয়েছেন মোছা. স্বপ্নীল আক্তার নূর, মোছা. জাকিয়া আক্তার, সৌরভ গারদিয়া, আরিফুল রহমান ও মুনতাসির সরকার। চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল পেয়েছেন মো. আবু বকর সিদ্দিক, আনজির রহমান খান, মো. তুহিন ইসলাম ও মো. আবু বকর সিদ্দিক এবং ভাইস চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পান শাহরিয়ার শহীদ, বায়েজিদ চৌধুরী ও হালিমা আক্তার।