জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে বাংলা শেখার প্রয়াস

স্টুটগার্ট শহরে কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুলের ‘প্রাথমিক সমাবর্তন ২০২৬’–এ শিক্ষার্থীরাছবি: কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল

সুদূর জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে বসরাসরত কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রথম সেই মহতী উদ্যোগ। বাংলা শেখার স্কুলটি শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। স্কুলটির যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। নাম দেওয়া হয় কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল।

প্রবাসে চাকরির পাশাপাশি এ ধরনের স্কুল খুলতে প্রথমে নানা সমস্যা হলেও ক্রমেই বাংলা স্কুলটির ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। বর্তমানে জার্মানির বিভিন্ন শহরের মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নিয়মিতভাবে অনলাইনে বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে।

এই স্কুলটির উদ্যোক্তারা বলেছেন, প্রবাসে আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের মাতৃভাষা বাংলার জন্য আমরা সব সময় অহংকার ও গর্ববোধ করি। এই ভাষার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। যেমন ঋণ রয়েছে আমাদের মায়ের কাছে এবং দেশ ও মাটির কাছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমাদের এ উদ্যোগ। তারা আরও বলেন, ‘অত্যন্ত অনুতাপের বিষয় যে প্রবাসে বসবাসরত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাংলা ভাষা চর্চা করার সুযোগ থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত। তাদেরকে বাংলায় লেখা, পড়া ও কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। সেই অনুভূতি থেকেই বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের বাংলা শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সম্প্রতি ২ মে ২০২৬ জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুলের ব্যাচ-১ ও ব্যাচ-২–এর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাবর্তন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রথম দুটি ব্যাচের মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ২০২১-২০২৬ সেশনে পাঁচ বছরব্যাপী বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত প্রথম-পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে।

প্রাথমিক সমাবর্তন ২০২৬ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শিক্ষার্থীদের পরিবারও
ছবি: কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল

জার্মান প্রবাসে বেড়ে উঠলেও এসব বাঙালি শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে মাতৃভাষা বাংলা ভাষায় কথা বলা, পড়া ও লেখার প্রতি আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। জার্মানিপ্রবাসী বাঙালি মহলে স্টুটগার্ট শহরে কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুলের এ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]