বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল: আন্তর্জাতিক শিক্ষায় ৪৩ বছরের উৎকর্ষ
১৯৮৩ সালে শিক্ষাবিদ লুবনা চৌধুরীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল (বিআইটি) আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। উচ্চ মানের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দেশের শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে এনে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিআইটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ ও চরিত্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৪৩ বছরে বিআইটি থেকে হাজারো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে বের হয়েছেন। যাঁরা বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন স্তরে সফল ক্যারিয়ার গড়ে শক্তিশালী একটি বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
বিআইটি পিয়ারসন এডেক্সেল কারিকুলামের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আইজিসিএসই এবং ইন্টারন্যাশনাল ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করে।
ঢাকার উত্তরায় ১৭ বিঘা (প্রায় ১০.৫ একর) জায়গাজুড়ে বিস্তৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাস। পাশাপাশি গুলশান এলাকায়ও রয়েছে তাদের একটি অতিরিক্ত ক্যাম্পাস। প্রধান ক্যাম্পাসে রয়েছে ঢাকার অন্যতম বৃহৎ খেলার মাঠ, বৃহৎ মার্শাল আর্ট কোর্ট, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, আইসিটি সুবিধা, গ্রন্থাগার এবং প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট একটি সুবিশাল অডিটোরিয়াম। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিআইটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, যার জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি এবং আনসার নিরাপত্তা দল নিয়োজিত রয়েছে।
বিআইটির একাডেমিক সাফল্যের প্রতিফলন দেখা যায় শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক কৃতিত্বে। বছরের পর বছর ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় তাঁরা অর্জন করেছেন দেশসেরা ফলাফল, যা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানকে তুলে ধরে।
২০২৫ সালের পিয়ারসন এডেক্সেল আইজিসিএসই পরীক্ষাতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে। বিআইটির অনেক শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড ৯ অর্জন করেছেন। কেউ কেউ আট থেকে নয়টি বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফল করে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক উৎকর্ষকে আরও দৃঢ় করেছেন।
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিআইটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্ব দেয়। বিতর্ক, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, ক্রীড়া, শিল্পকলা, মিডিয়া, প্রযুক্তি ক্লাবসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ ও ম্যান্ডারিনসহ বিভিন্ন আধুনিক বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগও রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের গ্লোবালি দক্ষ করে তোলে।
প্রতিষ্ঠাতার উত্তরাধিকার ধরে রেখে বর্তমানে বিআইটির নেতৃত্বে আছেন তাঁর কন্যা আনিকা রহমান ও তালিতা চৌধুরী। আনিকা রহমান প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক। অন্যদিকে তালিতা চৌধুরী মাউন্ট হোলিওক কলেজে অধ্যয়ন শেষে সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পারিবারিকভাবে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্নের আদর্শ—দায়িত্বশীল, মানবিক ও সক্ষম নাগরিক গড়ে তোলা অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র ‘সার্ভ দ্য নেশন’, যা দেশের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। বিআইটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী তাসনুভা শেলি, ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডালের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জিয়া আশরাফ, সেভয় আইসক্রিমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী হাসিব আহমেদ প্রমুখ। এ ছাড়া বিআইটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিহাব শাহরিয়ার, ইবনুল এরফান ও তানজিল কবিরের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কেবলগ্রাম’ ও ‘নাটশেল টুডে’র প্রতিষ্ঠানগুলো। তাঁরা বিআইটির বিস্তৃত অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রাখছেন।
দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তি, আধুনিক অবকাঠামো এবং সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল ভবিষ্যতেও এমন প্রজন্ম গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যারা সমাজ ও বিশ্বে অর্থবহ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।