ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ বছরে নতুন ১৫ বিভাগ, ৬০০০ শিক্ষার্থীর আবাসন
গত ১৫ বছরে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং আবাসনসুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ১৫টি নতুন বিভাগ, ৩০টি গবেষণাকেন্দ্র এবং ১টি ইনস্টিটিউট চালু করেছে দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নতুন বসবাসের সুবিধা এবং ৪০০ শিক্ষক ও ৭০০ কর্মচারীর জন্য আবাসনসুবিধা তৈরি করা হয়েছে এ সময়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৮৪টি বিভাগ, ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ১৯টি আবাসিক হল এবং অন্তত ৫১টি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ বছরে ১৫টি বিভাগ, ১টি ইনস্টিটিউট, ২টি আবাসিক হল ও ৩০টি গবেষণাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থে দুটি আবাসিক হল—বিজয় ৭১ হল (২০১৩) ও কবি সুফিয়া কামাল হল (২০০১) তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি হলই এক হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন। এর মধ্যে তিনটি সম্প্রসারিত বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে—বেগম রোকেয়া হলে ১ হাজার ছাত্রীর জন্য ১১ তলাবিশিষ্ট ৭ মার্চ ভবন, জগন্নাথ হলে ১ হাজার ছাত্রের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ভবন এবং বঙ্গবন্ধু হলে ১ হাজার ছাত্রের জন্য ১১ তলা সম্প্রসারিত ভবন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের থাকার সুবিধার্থে রোকেয়া হল এক্সটেনশন বিল্ডিং নং-২, এফএইচ হল বিল্ডিংসহ কয়েকটি ডরমিটরি ভবন ওপরের দিকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
শিক্ষকদের আবাসনসুবিধা বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে মুনীর চৌধুরী ভবন, প্রভোস্ট কমপ্লেক্স, ১২ তলা বিশিষ্ট ৭ মার্চ রোকেয়া হলের হাউস টিউটর বিল্ডিং, জগন্নাথ হলের শিক্ষকদের জন্য আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ১২ তলা ভবন, বঙ্গবন্ধু হলের হাউস টিউটরদের জন্য আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ১১ তলা ভবন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধার উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে ২০ তলাবিশিষ্ট শেখ রাসেল টাওয়ার, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ১২ তলা শেখ কামাল টাওয়ার, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ২০ তলা বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, আজিমপুর এবং শহীদ আবদুল খায়ের ভবনে কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা আবাসিক ভবন। একাডেমিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের জন্য ২১ তলা বিল্ডিং, ১২ তলাবিশিষ্ট সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টি ভবন, ১১ তলাবিশিষ্ট বিজ্ঞান ভবনে উন্নত গবেষণাকেন্দ্র, মোকাররম হোসেন খোন্দকার বিজ্ঞান ভবন এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের জন্য পৃথক ভবন।
এ ছাড়া কিছু একাডেমিক ভবন উল্লম্বভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কলাভবন, বিজ্ঞান অ্যানেক্স ভবন, চারুকলা অনুষদের লেকচার থিয়েটার ভবন, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি ভবন, ফিশারিজ স্টাডিজ বিভাগের ভবন সম্প্রসারণ এবং ভূতত্ত্ব¦বিভাগের জন্য সম্প্রসারিত ফ্লোর।
১৫ বছরে চালু করা বিভাগগুলো হলো
সংগীত (২০০৯), নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং (২০১০), শিক্ষা ও পরামর্শ বিভাগ (২০১১), টেলিভিশন, চলচ্চিত্র এবং ফটোগ্রাফি (২০১২), অপরাধবিদ্যা (২০১২), সমুদ্রবিদ্যা (২০১২), দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা (২০১২), নৃত্য (২০১৪), ফলিত গণিত (২০১৪), মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন (২০১৫), রোবোটিকস (২০১৫), সংস্থা, কৌশল ও নেতৃত্ব (২০১৬), আবহাওয়াবিদ্যা (২০১৬), জাপানিজ স্টাডিজ (২০১৭), তাত্ত্বিক ও কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি (২০১৭) এবং জনস্বাস্থ্য (২০২৩, চালু হয়নি এখনো)।
এই সময়ের মধ্যে ‘ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট খোলা হয়েছে। তা ছাড়া অন্তত ৩০টি গবেষণাকেন্দ্রও চালু হয়েছে এই সময়ের মধ্যে।
সন্ধ্যাকালীন কোর্স পরিচালনার উদ্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এই সময়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে ৩৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করছে, যেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাইরেও সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের ক্লাস পরিচালনা করেন ৭২৫ জন শিক্ষক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক আসিফ হোসেন খান বলেন, গত ১৫ বছরে অ্যাকাউন্ট অটোমেশন, ভর্তি ও পরীক্ষা প্রক্রিয়াকরণ, বৃত্তি, ট্রান্সক্রিপ্ট ও মার্কশিট, কর্মচারীদের জন্য বাড়তি বরাদ্দের মতো অটোমেশন প্রোগ্রামগুলোর একটি সিরিজ চালু করা হয়েছে। আরও কিছু উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক সুবিধাসহ স্মার্ট কার্ড প্রদান, সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে ই-মেইল প্রদান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপস ডেভেলপ করা এবং যেকোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো বাধা এড়াতে ‘ডিইউবিডিএলএমএস’ শিরোনামের ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ সফটওয়্যার তৈরি করা।