ক্লাসরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ‘চিটিং’ নয়, সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের ৮টি উপায়

ছবি: এআই/প্রথম আলো

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ওপেনএআই-এর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ‘চিটিং’ বা নকল করার প্রবণতা, তথ্যের ভুল ও পক্ষপাতদুষ্ট কনটেন্ট তৈরির ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কথোপকথনের মাধ্যমে উত্তর প্রদান করে। এটি শুধু তথ্য খোঁজার টুল নয়, বরং কবিতা লেখা, সম্পর্ক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া বা এমনকি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবন্ধ লেখার মতো কাজও করতে পারে। এ কারণেই শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
এআই/প্রথম আলো

শ্রেণিকক্ষে এআই ব্যবহারের ৮টি নিরাপদ কৌশল

১. শেখার সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার: জটিল বিষয় বোঝা, ধারণা পরিষ্কার করা বা আইডিয়া ব্রেনস্টর্ম করার জন্য।

২. খসড়া লেখা ও সম্পাদনা: নিজের লেখা রিভিউ করে ব্যাকরণ ও গঠন উন্নত করা।

৩. ইন্টারঅ্যাকটিভ টিউটরিং: কুইজ ও ফ্ল্যাশকার্ড তৈরি করে অনুশীলন করা।

৪. ভাষা অনুশীলন: নতুন ভাষা শেখা বা অনুবাদে সহায়তা নেওয়া।

৫. দীর্ঘ পাঠ্য সংক্ষেপণ: জটিল আর্টিকেল বা বইয়ের সারাংশ তৈরি করে বিশ্লেষণ করা।

৬. অ্যাক্সেসিবিলিটি সহায়তা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য সহজ করা।

৭. তথ্য যাচাই ও সমালোচনামূলক চিন্তা: এআই-এর দেওয়া তথ্যের ভুল ও পক্ষপাত খুঁজে বের করা।

৮. সৃজনশীলতা বিকাশ: নতুন আইডিয়া তৈরি ও চিন্তার পরিসর বাড়ানো।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই ব্যবহার করার সময় তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের উচিত চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্যকে নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।

আরও পড়ুন

শিক্ষার লক্ষ্য নতুনভাবে ভাবার সময়

হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের লেকচারার হৌমান হারুনি বলেন, শিক্ষকদের এখন ভাবতে হবে—প্রযুক্তির বাইরে কী ধরনের দক্ষতা শিক্ষার্থীদের শেখানো প্রয়োজন। এআই যে কাজ করতে পারে না, সেই সমালোচনামূলক চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীলতাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষক অ্যাশলি আব্রামসনও মনে করেন, চ্যাটজিপিটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হতে পারে, যেখানে মুখস্থ নয় বরং চিন্তাশক্তিই প্রধান দক্ষতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়—এটি বর্তমান বাস্তবতা। তাই এটিকে নিষিদ্ধ না করে, সঠিকভাবে ব্যবহার শেখানোই শিক্ষাব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন