যুক্তরাষ্ট্রে ওপিটি জালিয়াতির তদন্ত, নজরদারিতে ১০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ (F-1) ভিসায় পড়ুয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ সুবিধা হলো অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মেজর বা পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে ১২ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় এই অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তদন্তে প্রায় ১০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এই তদন্ত পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বলছে, ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক জালিয়াতি ও অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
কঠোর অবস্থানে আইসিই
ওপিটি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি এবং এইচ-১বি ভিসার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লিওনস এই কর্মসূচিকে ‘জালিয়াতির কেন্দ্রবিন্দু’ বলে মন্তব্য করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কোথাও খালি ভবন, কোথাও তালাবদ্ধ অফিস দেখা গেছে। আবার একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করার ঘটনাও ধরা পড়েছে।
এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী
তদন্তকারীরা আরও জানান, কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত থাকলেও বাস্তবে সেখানে কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি। একটি প্রতিষ্ঠানের দাবি ছিল, সেখানে মাত্র ৩ জন ওপিটি কর্মী রয়েছেন, কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ভারতের যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন খাতে চাকরি ছাঁটাই, নিয়োগ কমে যাওয়া এবং ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরির সুযোগ পাওয়া এখন শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ভেতরে টিকে থাকাও নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে