মধ্যবিত্তদের জন্য বাজেটবান্ধব ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার সুযোগ

অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মেধাভিত্তিক বৃত্তির বাইরেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছবি: ফ্রিপিক

বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখন একটি জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার ক্ষেত্রে আভিজাত্যের মোড়ক সরিয়ে প্রকৃত মেধা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ খুঁজে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে গুণগত মান ও সাশ্রয়ী বাজেটের মধ্যে সমন্বয় তখনই সম্ভব, যদি সিদ্ধান্তগুলো তথাকথিত জনপ্রিয়তার বদলে বাস্তবমুখী তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে তথ্যনির্ভর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তই বেশি কার্যকর।

শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভূমিকা

বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘকাল ধরে ব্রিটিশ কাউন্সিল ইতিবাচক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি শুধু আন্তর্জাতিক পরীক্ষা যেমন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশনস, পিয়ারসন এডেক্সেল এবং অক্সফোর্ড একিউএ ইত্যাদি আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী এবং বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগী বা ‘পার্টনার স্কুল’ হিসেবে যুক্ত থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পায়। পাশাপাশি বিভিন্ন সর্বাধুনিক রিসোর্স ব্যবহারের সুবিধা লাভ করে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হয়ে ওঠে।

সাশ্রয়ী ফি কাঠামোর মধ্যে মানসম্মত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা খোঁজার ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্পৃক্ততা অভিভাবকদের জন্য একটি আস্থার সূচক হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে তারা তুলনামূলকভাবে সহজে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার ধারা অনুসরণ করেও তাদের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে থাকে।

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (স্কুলস, ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামিনেশনস) জুবায়ের নাঈম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুলগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনন্য অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে “ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কলারস অ্যাওয়ার্ড” নামের একটি সম্মানজনক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাঁরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন অনুষ্ঠিত মে/জুন ২০২৪ সেশনের কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল, পিয়ারসন এডেক্সেল এবং অক্সফোর্ড একিউএ (ও-লেভেল/আইজিসিএসই/ইন্টারন্যাশনাল জিসিএসই) পরীক্ষায় ৯টি বা এর বেশি বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে তাঁদের ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

জুবায়ের নাঈম আরও জানান, এই অসামান্য সাফল্য কেবল শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিফলন নয়, বরং আমাদের পার্টনার স্কুলগুলোর শিক্ষাসেবার মানদণ্ডকেও তুলে ধরে। এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজয়ী শিক্ষার্থীরা তাঁদের আসন্ন এ-লেভেল পরীক্ষার একটি বিষয়ের ফি মওকুফের সুবিধা পাবে। তবে এই বিশেষ সুবিধাটি শুধু ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

আরও পড়ুন

প্রাতিষ্ঠানিক আভিজাত্য বনাম অ্যাকাডেমিক সক্ষমতা

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয় স্কুলের বাহ্যিক জৌলুস দেখে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশাল ক্যাম্পাস বা আধুনিক স্থাপত্যের চেয়েও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো স্কুলের ‘একাডেমিক ট্র্যাক রেকর্ড’। ব্রিটিশ কাউন্সিলের বার্ষিক মেধাতালিকায় মাঝারি বাজেটের অনেক স্কুলের নাম নিয়মিত উঠে আসছে। সাশ্রয়ী ফি-কাঠামোতে মানসম্পন্ন শিক্ষাদানকারী এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিজ্ঞাপনে নয়, বরং ও-লেভেল এবং এ-লেভেলের ফলাফলে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করে। তাই স্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভবনের চাকচিক্য না দেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং গত কয়েক বছরের ফলাফলের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

আর্থিক সুরক্ষা ও বৃত্তির কৌশলগত ব্যবহার

আর্থিক পরিকল্পনা কেবল মাসিক বেতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলে না। মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের জন্য সন্তানের স্কুলের ‘সেশন ফি’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট চার্জ’ একটি বড় চাপ। তবে বর্তমানে অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মেধাভিত্তিক বৃত্তির বাইরেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। বিশেষ করে ও-লেভেলের ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে পাওয়া ‘মেরিট স্কলারশিপ’ পরিবারের আর্থিক চাপ অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ কাউন্সিল আয়োজিত বিভিন্ন অলিম্পিয়াড বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা যে স্বীকৃতি পায়, তা-ও অনেক সময় স্কুলের অভ্যন্তরীণ বৃত্তি পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন

বৈশ্বিক নাগরিক তৈরির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তবে সাশ্রয়ী বাজেটের স্কুল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহশিক্ষা কার্যক্রম কিংবা লাইব্রেরির মতো মৌলিক সুবিধার সঙ্গে আপস করা উচিত হবে না।

ব্রিটিশ কাউন্সিল অনুমোদিত স্কুলগুলো সাধারণত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ডিবেট ক্লাব, সায়েন্স ফেয়ার এবং কমিউনিটি সার্ভিসের মতো কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। শিক্ষাক্ষেত্রের বিশ্লেষণ বলছে, এসব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে।

ফলে সময়োপযোগী ও তথ্যভিত্তিক স্কুল নির্বাচন ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।