বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত দেশ বাছাই করবেন যেভাবে

উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজের আগ্রহ, একাডেমিক লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া জরুরিছবি: এআই/ফ্রিপিক

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত দেশ নির্বাচন শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বা র‍্যাঙ্কিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। একই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পাঠ্যক্রম, শিক্ষাপদ্ধতি, গবেষণার সুযোগ ও বিশেষায়নের ধরন আলাদা হতে পারে। তাই নিজের আগ্রহ, একাডেমিক লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া জরুরি। সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিলে উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

প্রথমে ঠিক করুন কী শিখতে চান

বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার আগে নিজের পছন্দের বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। যেমন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়তে চাইলে কেউ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, কেউ ডিজিটাল মিডিয়া, আবার কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ বা মিডিয়া গবেষণায় বিশেষজ্ঞ হতে চাইতে পারেন। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও ফিন্যান্স, মার্কেটিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কিংবা ব্যবসায় বিশ্লেষণের মতো আলাদা আগ্রহ থাকতে পারে।

তাই শুধু কোন দেশে বিষয়টি পড়ানো হয়, তা দেখলেই হবে না। নিজের আগ্রহের বিশেষায়নে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স বেশি উপযোগী, সেটি খুঁজে দেখতে হবে। কোর্সের নামের পাশাপাশি বিস্তারিত পাঠ্যক্রম বা মডিউল তালিকা পড়ুন। এতে কোন বিষয়গুলো পড়ানো হবে, কতটা তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং কতটা ব্যবহারিক কাজের সুযোগ রয়েছে, তা বোঝা সহজ হবে।

শিক্ষাপদ্ধতি আপনার সঙ্গে মানানসই কি না

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানোর পদ্ধতি এক নয়। কোথাও বক্তৃতাভিত্তিক ক্লাস ও পরীক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, আবার কোথাও দলগত প্রকল্প, উপস্থাপনা, গবেষণা, কেস স্টাডি কিংবা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। কোন পদ্ধতিতে আপনি ভালো শিখতে পারেন, তা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে চাইলে থিসিস, গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প এবং কোর্সভিত্তিক ডিগ্রির পার্থক্য বুঝে নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে গবেষক হতে চাইলে গবেষণার সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে চাইলে প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা বা ব্যবহারিক কাজের সুযোগ বেশি উপযোগী হতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে সানজেন এডুকেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা জরুরি। টিউশন ফির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও বৃত্তির সুযোগ যাচাই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি স্বীকৃতি, কোর্সের মান, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, স্নাতকোত্তর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

দেশের চেয়ে কোর্সের মানকে গুরুত্ব দিন

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে কিন্তু সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিং দিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের মান পুরোপুরি বোঝা যায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিক তালিকায় খুব ওপরে না থাকলেও আপনার পছন্দের বিষয়ে ভালো পাঠ্যক্রম, অভিজ্ঞ শিক্ষক কিংবা উন্নত গবেষণার সুযোগ দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোর্সের বিবরণ, শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্র, বিভাগীয় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার্থীদের প্রকল্পের নমুনা দেখুন। সম্ভব হলে বর্তমান শিক্ষার্থী বা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও জানুন। তাঁরা ক্লাসের ধরন, শিক্ষকদের সহায়তা ও কোর্সের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে এমন তথ্য দিতে পারেন, যা শুধু প্রচারমূলক ওয়েবসাইটে পাওয়া কঠিন।

সিদ্ধান্ত নিন তুলনা করে

একসঙ্গে অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খোঁজ করতে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রথমে নিজের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী কয়েকটি সম্ভাব্য কোর্স বেছে নিন। এরপর পাঠ্যক্রম, বিশেষায়নের সুযোগ, শিক্ষাপদ্ধতি, গবেষণার সুবিধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের তুলনা করুন। প্রতিটি কোর্স আপনার লক্ষ্য পূরণে কীভাবে সাহায্য করবে, তা লিখে রাখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা দেশ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। অন্য কারও জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয় উপযুক্ত, আপনার জন্য সেটি না–ও হতে পারে। তাই জনপ্রিয়তা বা পরিচিতির পেছনে না ছুটে নিজের আগ্রহ, শেখার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।