বেতন-ভাতা হিসেবে বিদেশিদের পেছনে বছরে ব্যয় ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা

ডিসিসিআই আয়োজিত ‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয়: পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা
ছবি: বাসস

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, দেশে শিল্প ও কর্মসংস্থান উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে, যেখানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে। সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান’ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয়: পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি মো. সামীর সাত্তার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক বিদিশা।

দীপু মনি সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান’ তৈরির আহ্বান জানান। দেশে জনবল তৈরির লক্ষ্যে ইকো-সিস্টেম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আলোচনা হচ্ছে, এখন সময় এসেছে সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এবং এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি।

আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশকিছু হাই-টেক আইটি পার্ক নির্মাণ করছে, তবে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে স্থানীয়ভাবে দক্ষ মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই এবং এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিতে এগুলোর বাণিজ্যিকীকরণে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বেতন-ভাতা হিসেবে বিদেশিদের পেছনে বছরে ব্যয় এক হাজার কোটি টাকা

স্বাগত বক্তব্যে মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘আমাদের শিল্প খাত পরিচালনায় অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছেন, যাঁদের বেতন-ভাতা হিসাবে বছরে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। মূলত এর জন্য আমাদের গুণগত শিক্ষাব্যবস্থার অনুপস্থিতি ও দক্ষ জনশক্তির অভাব দায়ী। তাই দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বয় বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

আরও পড়ুন

নাসরীন আফরোজ বলেন, শিক্ষার্থীদের উপযোগী ও দক্ষ করে তুলতে শিক্ষা ও শিল্প খাত এবং সরকারের সমন্বয় একান্ত অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল’ থেকে দক্ষতা উন্নয়নে পরিচালিত কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেখান থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করা হবে।

মূল প্রবন্ধে সায়েমা হক বিদিশা বলেন, ‘ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি এবং এটাকে মোকাবিলায় শিক্ষা ও শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এখনো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে যুগোপযোগী করতে পারলে মানবসম্পদ খাতে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তিনি শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, চাকরিপ্রার্থীদের পাশাপাশি চাকরিপ্রাপ্তির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রের একটি ডেটাবেইস প্রণয়নের আহ্বান জানান।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আবাসিক প্রতিনিধি টমো পুটিনেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বডির সদস্য সাফকাত হায়দার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রমূখ আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচকেরা সব স্তরে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ, নীতি সহায়তা ও বিদ্যমান আইনের সংস্কার, গবেষণা ও উন্নয়নে খাতে আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও শিল্প খাতের মিথস্ক্রিয়া বাড়ানো, কাজের ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন এবং অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর জোরারোপ করেন।