হার্ভার্ডে লিডারস প্রোগ্রামে যেভাবে নির্বাচিত হলাম

লেখক

বিশ্ববিদ্যালয়–জীবনের চার দেয়াল পেরিয়ে আমার চোখ ছিল বৈশ্বিক অঙ্গনে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার পাশাপাশি অনলাইন কোর্স ও দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করতে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। নেপালে একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পের সুযোগ হাতছাড়া হলেও, সেই অপূর্ণতাই আমাকে টেনে এনেছে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’-এ, যেখানে নির্বাচিত হয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছি।

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে জড়িত আছি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে টিম পরিচালনা, বিভিন্ন ইভেন্ট পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার বাস্তব ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। যা আমার নেতৃত্ব সম্পর্কে শেখার এবং নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমি অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক লিডারশিড প্রোগ্রাম/বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছি।

২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল; কিন্তু ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারিনি। সেই অপূর্ণতা আমাকে থামিয়ে দেয়নি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার নতুন সুযোগ খুঁজতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

আরও পড়ুন

নেতৃত্ব উন্নয়নের এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে অনলাইনে জানতে পারি। গত মে মাসে অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬ ব্যাচ–৩ তে আবেদন করি।

দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম (The Aspire Leaders Program) একটি নেতৃত্ব উন্নয়নের উদ্যোগ। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সাল থেকে স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট (Aspire Institute)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশগ্রহণ করেছে।

সম্পূর্ণ অর্থায়িত এই কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম সন্তান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা এবং শিক্ষাগত ও পেশাগতভাবে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানো।

আরও পড়ুন

এই প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিকভাবে হার্ভার্ডসহ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে শেখার সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, দলবদ্ধভাবে কাজ করা এবং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ই আমাকে আবেদন করতে অনুপ্রাণিত করেছে। আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর অপেক্ষায় ছিলাম, নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইল পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছি।

৯ সপ্তাহের নেতৃত্বের এই প্রোগ্রামটি ৩টি মডিউলে বিভক্ত এবং এতে অংশ নিতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার সনদ প্রয়োজন নেই। তবে ইংরেজি ভাষা পড়ার ও শুনে বুঝতে পারতে হবে।

আরও পড়ুন

আবেদনের যোগ্যতা

—আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী;

—বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে;

—উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি জানা থাকতে হবে;

—পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।

সুযোগ-সুবিধাসমূহ

—বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ

—হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাস্টার ক্লাস

—বিশ্বের অন্য অ্যাস্পায়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ

—উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান

—বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ

—আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন

—ব্যবহারিক দক্ষতা-নির্মাণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ।

*লেখক: অনলাইন গ্রাফিকস ডিজাইনার, প্রথম আলো। পড়াশোনা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে